দেশের স্বার্থে যেন একসঙ্গে কাজ করতে পারি: ডা: শফিকুর রহমান

দেশের স্বার্থে অতীতের মত বিএনপির সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

দেশের স্বার্থে যেন একসঙ্গে কাজ করতে পারি: ডা: শফিকুর রহমান
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

দেশের স্বার্থে অতীতের মত বিএনপির সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশ এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে আছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন হবে, একইদিনে গণভোটও হবে। এই নির্বাচন যাতে নির্বিঘ্ন, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হয়, এই দোয়া করি, আমরা এই বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছি।

মো: নাসির মোল্লা, সিনিয়র রিপোর্টারঃ

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন লড়াই করেছেন, ম্যাডাম যে ঐক্যের পাটাতন তৈরি করে গেছেন, তার ওপর দাঁড়িয়ে যেন আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারি, সেই দোয়া কামনা করি।

পহেলা জানুয়ারী,২০২৬ইং বৃহস্পতিবার  সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তারেক রহমান ও তার শোক-সন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন জামায়াত আমির। দেশের স্বার্থে অতীতের মতো আগামীতেও বিএনপির সাথে একসঙ্গে কাজ করার কথাও বলেন তিনি। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য রাখা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন তিনি।

ডাঃ শফিক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বিরল সম্মান নিয়ে চলে গেছেন। তার জানাজায় মানুষের উপস্থিতি ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। সবাই তার জন্য চোখের পানি ফেলেছেন। তার শেষ বিদায় সংবর্ধনায় জাতির পাওনা তিনি পেয়েছেন। এটা সবার কপালে জোটে না। এটা বিশাল ব্যাপার। আমরা শুকরিয়া আদায় করি। এটা আমাদেরকে অনুপ্রানিত করেছে যে, আমরাও জাতির জন্য অবদান রাখলে জাতি এভাবে সংবর্ধনা দেবে।

সাক্ষাৎ শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর বাইরেও তার সংগ্রামী জীবন ছিল। শেষ জীবনটা জেলে তার একাকিত্ব অবস্থায় কেটেছে। এ সময় যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা অমানবিক আচরণ করেছেন।

দেশের স্বার্থে অতীতের মত বিএনপির সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশ এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে আছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন হবে, একইদিনে গণভোটও হবে। এই নির্বাচন যাতে নির্বিঘ্ন, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হয়, এই দোয়া করি, আমরা এই বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছি। 

জাতির স্থিতিশীলতা ও একটা সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে পাঁচটা বছরের জন্য আমরা সবাই মিলে মিশে ভাল কিছু চিন্তা করতে পারি কিনা-সেটাও আমরা চিন্তা করতে পারি।

আমরা এটাও বলেছি, প্রিয় দেশের স্বার্থে অতীতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি, আগামীতেও দেশের স্বার্থে ইনশাআল্লাহ একসঙ্গে কাজ করবো। তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতারা একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। আমরাও একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার পরিবারের সদস্য, বিএনপি নেতাকর্মী এবং চিকিৎসাকাজে নিয়োজিত চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, তিনি গুরুতর অসুস্থ হলে বিদেশে চিকিৎসার জন্য দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলেও সরকার আমলে তো নেয়ইনি, বরং বারবার উপহাস করেছে। আল্লাহর বিচার, শেষ জীবনে তিনি বিদেশে চিকিৎসাও নিয়েছেন।

তবে তার অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। ব্রিটেন থেকে ফেরার পর তার স্বাস্থ্যে এতটাই ভেঙ্গে যায় যে, দেশেই তার চিকিৎসা নিতে হয়। আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন, জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। চিকিৎসকরা তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়েছেন।

বেগম খালেদা জিয়ার দাফনের পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে যান জামায়াত আমির। সেখানে প্রথমে তার শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান নীরব ও মোবারক হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিন মঙ্গলবার গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে শোক বইয়ে স্বাক্ষর ও দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সহ প্রতিনিধি দল। বুধবার মরহুমার জানাজাতেও জামায়াত আমির সহ দলের শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করেন।এছাড়া ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশ হতে অসংখ্যা জামায়াত শিবির নেতাকর্মীরা জানাজায় অংশ নেন।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জামায়াত