ফোনে আড়িপাতার প্রযুক্তি ব্যবহার তদন্ত হবে
তিনি বলেন, "মানবাধিকার ও ব্যক্তির নিরাপত্তা অত্যন্ত ক্ষুণ্ণ হয়েছে।" তিনি আরও পরামর্শ দেন যে, পুরো বিষয়টির তদন্ত করা উচিত এবং শ্বেতপত্র প্রকাশ করা দরকার।
তিনি বলেন, "মানবাধিকার ও ব্যক্তির নিরাপত্তা অত্যন্ত ক্ষুণ্ণ হয়েছে।" তিনি আরও পরামর্শ দেন যে, পুরো বিষয়টির তদন্ত করা উচিত এবং শ্বেতপত্র প্রকাশ করা দরকার।
অনলাইন ডেস্ক:
আওয়ামী ফ্যাসিষ্ট আমলে ফোনে আড়িপাতার প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি এখন তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার, এবং এর কাজ হচ্ছে– কোথা থেকে এবং কত টাকায় এসব নজরদারি যন্ত্র কেনা হয়েছে, কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, এবং এর প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, এসব খতিয়ে দেখা। কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
এ বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ফাহিম মাশরুর মনে করেন, বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি এবং এর আগেই তদন্ত হওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, "মানবাধিকার ও ব্যক্তির নিরাপত্তা অত্যন্ত ক্ষুণ্ণ হয়েছে।" তিনি আরও পরামর্শ দেন যে, পুরো বিষয়টির তদন্ত করা উচিত এবং শ্বেতপত্র প্রকাশ করা দরকার।
কমিটি গঠন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি জানান, এ তদন্তে বিগত সরকারের ক্ষমতাসীন ফ্যাসিস্ট আচরণও সামনে আসবে বলে তার ধারণা। তদন্তের আওতায় দুটি মূল সংস্থা আসবে: ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) এবং ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকমিউনিকেশন (ডিওটি)। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এসব সংস্থাকে বিলুপ্ত করা উচিত, কারণ এসব সংস্থার মাধ্যমে বিরোধীদের নজরদারি চালানো হয়েছিল।
তথ্য অনুসারে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের পূর্বে ফোনকল রেকর্ডিংয়ের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিল। এর মাধ্যমে সরকারের বিরোধীদের ডাটা সংগ্রহ করা এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সেগুলি ফাঁস করা হতো। সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান এই কাজটি সমন্বয় করতেন, যিনি বর্তমানে একাধিক মামলায় আটক রয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এনটিএমসি নজরদারি যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রায় ৬৩১ কোটি টাকা খরচ করেছে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অযাচিত প্রবেশাধিকারও ছিল। প্রজ্ঞাপন জারি হলে, কমিটি এসব বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করবে এবং সবার সামনে তথ্য তুলে ধরবে।
এ বিষয়ে সরকারের উপদেষ্টা শফিকুল আলম জানিয়েছেন, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় এসব যন্ত্রপাতি কিনতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। কারা এসব প্রযুক্তি কিনেছে, কিভাবে এগুলি ব্যবহৃত হয়েছে, এসব তথ্য খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে, ইসরায়েল থেকে কেনা যন্ত্রপাতির বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং এরপর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়










