রাজধানীতে প্যান ইসলামিক মুভমেন্টের আলোচনা সভা
মহানগর সংবাদদাতাঃ
রাজধানীতে নতুন সংগঠন প্যান ইসলামিক মুভমেন্টের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভায় প্যান ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তফা জামাল ভূইয়া উপস্থিত ছিলেন।
প্যান ইসলামিক মুভমেন্ট কর্তৃক আয়োজিত ”খিলাফত , প্যান ইসলামিজম, মুসলিম জাতিসত্তা এবং ওয়াকফ সম্পত্তি সংরক্ষন ও উদ্ধার ” বিষয়ক আয়োজিত আলোচনা সভায় উপস্থিত সকলকে উদ্দেশ্য করে তিনি যে আলোচনা করে তা হুবহু তুলে ধরা হলো। "মোহতারাম হাজেরীন , আসসালামু আলাইকুম ।
ওয়াকফ সম্পত্তি সম্পর্কিত নতুন করে সংগা প্রদানের প্রয়োজন নেই । আমাদের দেশে ওয়াকফ দুই প্রকার ওয়াকফ দেখা যায় , একটি হল ওয়াকফ ফি সাবি লিল্লাহ এবং অপরটি হল ওয়াকফ আল আওলাদ । এই দুই ধরনের ওয়াকফ সম্পত্তি
আজ প্রায় বেহাত । অত্র আলোচনা সভার উদ্দেশ্য হল ঃ-
১. ধর্মীয় বিষয়াদির জন্য ওয়াকফকৃত স্থাবর সম্পত্তি বা অস্থাবর সম্পত্তির শরীয়ত মোতাবেক পরিচালনা করা ।
২. বেহাতকৃত ওয়াকফ সম্পত্তিগুলো পুনরুদ্বার এবং ওয়াকফকৃত সম্পত্তির আয় ও ব্যায় ওয়াকফ ডীড মোতাবেক পরিচালিত করা এবং ওয়াকফ ডীডের অবর্তমানে ফতোয়া মোতাবেক পরিচালিত করা ।
৩. ওয়াকফকৃত সম্পত্তি সম্পর্কিত পরিচালনার দায়িত্ব পরহেযগার মুসলমানদের হাতে অর্পন করা ।
৪. ওয়াকফকৃত সম্পত্তির উপর প্রতিষ্টিত প্রতিষ্টানগুলোকে হারাম মাল হতে বাচিয়ে রাখা ।
৫. ওয়াকফ কৃত সম্পত্তির আয় কোনভাবেই সূদে বিনিয়োগ করা সুযোগ না দেওয়া।
৬. অতীতে মুসলমানদের ওয়াককৃত সম্পত্তিগুলো কিভাবে উদ্ধার করা যায় এবং বর্তমানে বিদ্যমান ওয়াকফ সম্পত্তি কিভাবে রক্ষা করা যায় ।
৭. প্রত্নতাত্বিক অধিদপ্তর হতে ওয়াকফ সম্পত্তিগুলোর ছাড়পত্র গ্রহন করে ওয়াকফ মোতাবেক পরিচালিত করা ।
এবার এদেশে ওয়াকফের ইতিহাস সম্পর্কে কিছুটা আলোচনা যাক ।
ওয়াকফ সম্পত্তির ইতিহাসকে কয়েকটি যুগে বিভক্ত করা যায় ঃ-
প্রথম ধাপ - মুসলিম রিয়াসাত প্রতিষ্টার পূর্বের ওয়াকফ সম্পত্তি । ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী কৃর্তক
১২০৩ সালে মুসলিম রিয়াসাত প্রতিষ্টার পূর্বে কিছু ওয়াকফ সম্পত্তির সন্বান পাওয়া যায় । তবে এর পরিমান খুবই সামান্য ।
এগুলোকে প্রত্বতাত্বিক অধিদপ্তরের অধীনে না রেখে সরাসরি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে গন্য করে ওয়াকফ সম্পত্তির অনুরুপ
ব্যবহার করা ।
দ্বিতীয় ধাপ Ñ ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী কর্তৃক মুসলিম রিয়াসাত প্রতিষ্টার পর হতে ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত
ওয়াকফ সম্পত্তি । এগুলোর মধ্যে সামান্য কিছু টিকে আছে এবং বাকীগুলো ইংরেজরা বাজেয়াপ্ত করে । আবার কতগুলো
অযত্নে পড়ে আছে । উদাহরনস্বরুপ - শায়খ শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা ( রহ.) কর্তৃক প্রতিষ্টিত সোনারগায়ে হাদীসের
দরসগাহ , আবার বখতিয়ার খিলজী কর্তৃক প্রতিষ্টিত রংপুর শহরের মসজিদে শ্রুতি মোতাবেক এখানে এখন পশু রাখা হয়
। এই হল মুসলিম আমলের ওয়াকফ সম্পত্তির অবস্থা
তৃতীয় ধাপ - ব্রিটিশ আমলের ওয়াকফ সম্পত্তি । এই সময় ওয়াকফ আল আওলাদের আধিক্য দেখা যায় । যার মধ্যে
শাহজাদী বেগম এর ওয়াকফ সম্পত্তি উল্লেখযোগ্য যার মধ্যে এখন বিভিন্ন অনৈসলামিক কার্যকলাপ পরিচালিত হয় । আবার
কিছু সংখ্যক ওয়াকফ সম্পক্তি রয়েছে যা ওয়াকফ ফি সাবি লিল্লাহ যেগুলোর অধিকাংশ মাদ্রাসা হতে স্কুল কলেজে রুপান্তরিত
হয়েছে । এর পরিমান কয়েক হাজার ।
চতুর্থ ধাপ - ১৯৪৭ সালে হতে অদ্যবধি পর্যন্ত ওয়াকফ সম্পত্তি । এগুলোর বেশ কিছু বেহাত হয়েছে এবং যেগুলো আছে
এগুলোর অধিকাংশই শরীয়ত মোতাবেক পরিচালিত হয় না । এই সার্বিক বিষয় নিয়ে কি করা যায় এজন্য অদ্য আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে ।
আলোচনা সভায় সমমনা ইসলামিক স্কলার ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ক্রাইম ডায়রি //রাজনীতি










