প্রধান উপদেষ্টার সাথে দেখা না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না জবি শিক্ষার্থীরা
প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাত ও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন এবং রাজপথ ছাড়বেন না।
প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাত ও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন এবং রাজপথ ছাড়বেন না।
মো: হুমায়ন কবির:
দিনব্যাপী আন্দোলন চালিয়ে যাবার পর এবার জবি শিক্ষার্থীরা ঘোষনা দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাত ও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন এবং রাজপথ ছাড়বেন না।
বুধবার বিকালে পুলিশের বাধার মুখে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে সড়ক অবরোধ করে অবস্থানকালে এবং এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত প্রায় সাড়ে এগারটার দিকে তারা এ ঘোষণা দেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ পাঁচজন শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সহকারী সচিব শাব্বীর আহমদ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমাদের শিক্ষক ও ছাত্রদের ওপর যে হামলা চালানো হয়েছে, তার বিচার করতে হবে।”
জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন বলেন, “সরকারের এ কর্মকাণ্ডে আমরা মর্মাহত। আমার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ হামলার ঘটনায় পুলিশের বিচার করতে হবে।” এ সময় শিক্ষার্থীরা, ‘জেগেছে রে জেগেছে, জবিয়ানরা জেগেছে’, ‘আমার ভাই অনাহারে, যমুনা কী করে, ‘এসেছি যমুনায়, যাব না খালি হাতে’, ‘আমার ভাই আহত কেন, জবাব চাই, জবাব চাই’ এসব স্লোগান দেন।
বিকাল ৩টার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন, ব্যবসায় অনুষদের ডিন মঞ্জুর মোর্শেদ শিক্ষার্থীদের সড়কে অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেন। এর আগে বেলা ১১টায় তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাস ভবন অভিমুখে ‘লং মার্চ’ শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। লং মার্চ কর্মসূচিতে লাঠি চার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত হন।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো- আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন বৃত্তি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর করতে হবে; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করেই অনুমোদন করতে হবে; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ পরবর্তী একনেক সভায় অনুমোদন করে অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করতে হবে।
এদিকে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে বিক্ষোভরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা না করে সড়ক ছাড়বেন না। বুধবার রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের একাংশ ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন এবং ভিড় থেকে কেউ একজন তাকে লক্ষ্য করে পানির বোতল ছুড়ে মারেন।
দৈনিক ক্রাইম ডায়রি/ জাতীয়










