সম্পাদকীয়- দেশ গঠনে প্রয়োজন ঐক্য ও গবেষণা
সম্পাদকীয়
স্বৈরাচারের পতনের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে এ দেশের আপামর জনসাধারন। তাদের সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে হলে প্রয়োজন একতা।
গুণগত মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার অভাবে শিক্ষিত মানুষ বাড়লেও বাড়েনি শিক্ষিত জনশক্তি।
এই একতার মধ্যে কিভাবে ফাটল ধরানো যায় সেই প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকবে স্বৈরাচারের প্রেতাত্বারা। নানামুখী প্রচারনা ও তৎপরতার প্রতি তাই বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে স্বাধীনতাকামী সকল নাগরিকের। আমাদের দেশে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
কিন্তু গুণগত মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার অভাবে শিক্ষিত মানুষ বাড়লেও বাড়েনি শিক্ষিত জনশক্তি। এ দেশে প্রয়োজন বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ। গবেষণার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন হলেই কেবল তা টেকসই হয়। একটি দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নির্ভর করে গবেষণার ওপর।
গবেষণা খাত দেশের অর্থনীতিকে করে সমৃদ্ধ এবং সামাজিক সক্ষমতাকে পরিপূর্ণতা দান করে। শিক্ষার গঠনগত পরিবর্তন, প্রসার ও মান বৃদ্ধিকরণে গবেষণার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর শক্ত ভিত্তি স্থাপনের মূল হাতিয়ার হচ্ছে সুষ্ঠু গবেষণা খাত। গবেষণা খাতকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে দেশীয় অর্থনৈতিক খাতে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দেশের আলাদা স্থান তৈরি করা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু গবেষণাপত্র নির্মাণ করা। পরিবর্তনশীল এই পৃথিবীতে গতিশীল অর্থনৈতিক কাঠামো ব্যবস্থা নির্মাণ করতে যথাযথ গবেষণার বিকল্প নেই।
একটি দেশে বিভিন্ন বাস্তবিক সমস্যা রয়েছে। সময় যখন আধুনিক থেকে আধুনিকতর হচ্ছে তখন সমস্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সমস্যাটি দৃশ্যমান হচ্ছে। সেটা সামাজিক এবং প্রযুক্তিগত দুই ক্ষেত্রে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য গবেষণার বিকল্প নেই। এর জন্য প্রথমত সমস্যা চিহ্নিত করে উক্ত সমস্যাকে বিশ্লেষণ করে প্রাপ্ত উদ্ভাবনী ফলাফলকে সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োগ করতে হবে।
এতে গবেষণার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি গবেষণার অনুশীলনগত চর্চাও বৃদ্ধি পাবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মানবোন্নয়ন সূচকে বর্তমান বিশ্বে ইতিবাচকভাবে বহুল আলোচিত দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ।কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমাদের শিক্ষার্থীরা উন্নত বিশ্বের শিক্ষার্থীদের তুলনায় গবেষণামুখী কম।
উন্নত বিশ্বের শিক্ষার্থীরা যখন গবেষণাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, তখন আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা একাডেমিক শিক্ষাকেই গুরুত্ব বেশি প্রদান করে থাকেন। অপরাধ দমনে উন্নত বিশ্বে যেমন গবেষনা করা হয় তেমন কোন গবেষনা আমাদের দেশে নেই বললেই চলে। ফলে অপরাধ দমনে আমাদের দেশ অনেক পিছিয়ে। আমাদের দেশে গবেষণার পূর্ণাঙ্গ সংস্কৃতি ও আবহ এখনো গড়ে উঠেনি।
কারণ আমাদের দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় একটি অংশ স্নাতক সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন এবং দেশে গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে বিদেশেই গবেষণাকর্ম করছেন শিক্ষার্থীরা। এতে প্রকৃতপক্ষে লাভবান হচ্ছে না আমাদের দেশ। তাছাড়া গবেষণার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের কতটুকু সঠিক ব্যবহার হচ্ছে, সেটিও বড় একটি প্রশ্ন। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদেরকে গবেষণামুখী করার জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। এর জন্য শিক্ষার্থীদেরকে নিজ নিজ বিষয়ভিত্তিক গবেষণা করতে উৎসাহিত করতে হবে।
গবেষণা করতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার আয়োজন করা, গবেষণাবিষয়ক স্কলারশিপ প্রদান করা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যকার গবেষণা বিষয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা। এতে শিক্ষার্থীরা গবেষণার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবেন। তাছাড়া গবেষণা কাজে যারা নিয়োজিত সরকার কর্তৃক তাদেরকে উপযুক্ত ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে। জাতীয় বাজেটে গবেষণার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ বৃদ্ধি করতে হবে।










