পেনাল্টি মিসে হতাশা, তবুও শেষ ষোলোর স্বপ্ন অটুট

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শুরুতেই লিড নেওয়ার সুযোগ হারাল আর্জেন্টিনা, আলোচনায় মেসির ব্যর্থ স্পট কিক

পেনাল্টি মিসে হতাশা, তবুও শেষ ষোলোর স্বপ্ন অটুট
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

স্পোর্টস ডেস্ক:

ফিফা বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ পর্বের ম্যাচে শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। অধিনায়ক লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিসে হতাশ হয় লাখো সমর্থক। তবে ম্যাচের বাকি সময়জুড়ে নিজেদের লক্ষ্য পূরণে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় দেখিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করতে গিয়ে ৮ মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পেয়ে যায় তারা। আক্রমণের এক পর্যায়ে বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হন স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ। প্রথমে খেলা চলতে থাকলেও পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ঘটনাটি পর্যালোচনা করে রেফারিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেয়।

দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। গ্যালারিতে তখন উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তারকা এবং অধিনায়ক লিওনেল মেসি স্পট কিক নিতে এগিয়ে আসেন। কিন্তু প্রত্যাশার বিপরীতে তার নেওয়া শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে ম্যাচের একেবারে শুরুতেই লিড নেওয়ার সোনালি সুযোগ হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা।

মেসির এমন মিস আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিরল ঘটনা না হলেও বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এটি তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাচের গতি ও মানসিকতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পেনাল্টি থেকে গোল হলে আর্জেন্টিনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ়ভাবে নিজেদের হাতে নিতে পারত। তবে সুযোগ নষ্ট হওয়ায় অস্ট্রিয়া নতুন উদ্দীপনা নিয়ে খেলায় ফিরে আসার সুযোগ পায়।

এই ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য ছিল বিশেষ গুরুত্বের। গ্রুপ পর্বে টানা দ্বিতীয় জয় নিশ্চিত করতে পারলে তারা আগেভাগেই নকআউট পর্ব তথা শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করার পথে বড় সুবিধা পেত। ফলে মেসির পেনাল্টি মিস শুধু একটি গোলের সুযোগ নষ্টই নয়, ম্যাচের কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও ম্যাচটি ছিল মেসির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বকাপ ইতিহাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। গোলের পাশাপাশি দলের জয় এলে বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোল এবং সর্বাধিক ম্যাচ জয়ের নির্দিষ্ট কিছু পরিসংখ্যানে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করার সুযোগ ছিল তার সামনে।

তবে ফুটবল ৯০ মিনিটের খেলা। শুরুতে একটি সুযোগ নষ্ট হলেও ম্যাচের ফল নির্ধারণ হয় পুরো সময়ের পারফরম্যান্সে। তাই পেনাল্টি মিসের হতাশা পেছনে ফেলে আর্জেন্টিনা ও তাদের অধিনায়ক মেসি শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেন কি না, সেদিকেই ছিল ফুটবলপ্রেমীদের নজর।

বিশ্বকাপের চাপ, প্রত্যাশা আর রেকর্ডের হাতছানির মাঝেও মেসির এই মিস নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল—ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকারাও কখনো কখনো ভুল করেন। আর সেই অনিশ্চয়তাই বিশ্বকাপকে করে তোলে আরও নাটকীয় ও আকর্ষণীয়।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি/// খেলাধুলা