গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এলে প্রশাসন ও রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা: প্রধান উপদেষ্টা
তিনি আরও জানান, ‘নির্বাচন বন্ধু হটলাইন–৩৩৩’ চালু করা হয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার ৭০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা মাঠপর্যায়ে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
শাহআলম রাসেল:
আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশ এক ঐতিহাসিক মোড়ের দিকে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, গণভোটে যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হয়, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনায় মৌলিক পরিবর্তন আসবে এবং ভবিষ্যতে অপশাসনের পুনরাবৃত্তির সুযোগ আর থাকবে না।
সোমবার সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তার বক্তব্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব জানান, ওই অনুষ্ঠানে সিনিয়র সচিব ও সচিব পর্যায়ের প্রায় ৭০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে প্রধান উপদেষ্টা সবার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফটোসেশনে অংশ নেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অতীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো প্রকৃত অর্থে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে এবারের নির্বাচন হবে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ। ভোটের আর মাত্র দুই দিন বাকি, আর প্রস্তুতির দিক থেকে দেশ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন ও গণভোট দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় এক অনন্য পরিবর্তনের সূচনা করবে। ইতিহাসে এই প্রথম প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছেন। অতীতে নানা গণআন্দোলনে প্রবাসীদের অবদান থাকলেও এবার তাদের অংশগ্রহণ আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও শক্তিশালী রূপ পেয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, ভোটগ্রহণে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটারদের জন্য একটি বিশেষ অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যেখানে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদা ডিজিটাল সিস্টেম ব্যবহৃত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ‘নির্বাচন বন্ধু হটলাইন–৩৩৩’ চালু করা হয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার ৭০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা মাঠপর্যায়ে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে এবারের নির্বাচন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গ্রহণযোগ্য হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের আগমন প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর বৈশ্বিক আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী তিনটি নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি প্রায় ছিল না, যা সেই নির্বাচনগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ঘিরে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের উত্তেজনা দেখা যায়নি। রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করছে এবং প্রচারণাও তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চলছে।
সচিবদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গত দেড় বছরে প্রশাসনের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। প্রায় ১৩০টি অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে তারা নিষ্ঠা ও দ্রুততার পরিচয় দিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ অর্থনীতি প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী একটি বিশাল শক্তি, যা কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে শিল্প স্থাপনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলেও তিনি জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, জাপানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির ফলে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এ কারণে বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয় হলে একটি সুন্দর, স্বচ্ছ ও টেকসই বাংলাদেশের ভিত্তি রচিত হবে—এই প্রত্যাশা নিয়েই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়










