দেশজুড়ে ২৯ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন আজ

​​​​​​​‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ উদ্যোগে পাঁচ বছরে শিক্ষাঙ্গনে লাগানো হবে ৫ কোটি গাছ; জলবায়ু সচেতন প্রজন্ম গড়ার নতুন অভিযাত্রা

দেশজুড়ে ২৯ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন আজ
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে সবুজ সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের ইতিহাসে শিক্ষাঙ্গনভিত্তিক অন্যতম বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হচ্ছে আজ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একযোগে দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ সুরক্ষা পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের পাশাপাশি ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে এই সবুজায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে প্রায় ৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কেবল পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাই নয়, বরং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ধীরে ধীরে সবুজ ক্যাম্পাসে রূপান্তর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বছরের কর্মসূচিতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অন্তত তিন ধরনের গাছ লাগানো হবে। এর মধ্যে থাকবে একটি ফলদ, একটি বনজ এবং একটি ঔষধি বৃক্ষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বৈচিত্র্যময় বৃক্ষরোপণ স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উদ্বোধনী কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে মোট ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে ১৮ হাজার ৯০৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১ হাজার ৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৯ হাজার ২৬৮টি মাদ্রাসা।

প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠানটি সকাল ১০টায় হওয়ার কথা থাকলেও বিশেষ কারণে সময় পরিবর্তন করে দুপুর ২টায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে টেকসই ও ফলপ্রসূ করতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ হাজার টাকা করে বিশেষ জলবায়ু সচেতনতা অনুদান বরাদ্দ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই অর্থ বৃক্ষরোপণ, পরিচর্যা, পরিবেশবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং ক্যাম্পাস সবুজায়নের কাজে ব্যয় করা হবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু গাছ লাগানো নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি হবে।

মূল অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। দেশের প্রতিটি অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় পর্দার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি দেখানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আয়োজনে সংশ্লিষ্ট এলাকার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশ নেবেন।

এবারের আয়োজনের একটি বিশেষ দিক হলো অংশগ্রহণমূলক কাঠামো। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। তারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম, অভিজ্ঞতা এবং অনুভূতি তুলে ধরবেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি কার্যকর যোগাযোগ তৈরি হবে।

কর্মসূচি উপলক্ষে দেশের প্রতিটি অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক ব্যানার, ফেস্টুন ও সচেতনতামূলক উপকরণ প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠান এবং পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের আশা, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।

একই অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ কর্মসূচিরও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তরুণ উদ্ভাবকদের তৈরি বিভিন্ন স্টার্টআপ, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণার প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন এবং নির্বাচিত সেরা উদ্ভাবকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবুজায়ন এবং বিজ্ঞান-উদ্ভাবনকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও সৃজনশীল চিন্তাকে উৎসাহিত করার একটি বার্তা দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠান সফল করতে রোববার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। তারা মূল মঞ্চ, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং সার্বিক প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একই সময়ে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা যায়।

পরিবেশবিদদের মতে, শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিচালিত এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে দেশের বনাঞ্চল সম্প্রসারণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব নাগরিক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারও আশা করছে, শিক্ষাঙ্গনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ভবিষ্যতে সারাদেশে একটি স্থায়ী সবুজ আন্দোলনে পরিণত হবে।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়