এ রায় শুধু শেখ হাসিনার অপরাধের বিচার নয়, স্বৈরশাসনের পরিসমাপ্তির প্রতীক: বিএনপি
তিনি বলেন, “আমরা অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চাই না। এখন প্রয়োজন সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা—এবং সেই ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন। আজকের রায় সেই পথচলার একটি মাইলফলক।”
অনলাইন ডেস্ক:
শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঘোষিত রায়কে ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠা বলে আখ্যা দিয়েছে বিএনপি। সোমবার রায় ঘোষণার পর দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মন্তব্য করেন, “আমরা মনে করি এই রায় কেবল শেখ হাসিনার অপরাধের বিচারই নয়; বরং বাংলাদেশের মাটিতে যেকোনো স্বৈরশাসনের সমাপ্তির সূচনা করবে।”
রায় ঘোষণার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে। তবে তার মতে, অপরাধের তুলনায় সাজাটি যথেষ্ট নয়, যদিও আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে এর বেশি শাস্তির সুযোগ নেই। তিনি এটিকে ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো—যে-ই হোক, যত ক্ষমতাশালী বা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকুক, একসময় তাকে আদালতের মুখোমুখি হয়েই দাঁড়াতে হবে।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে বাকি মামলাগুলোতেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, শেখ হাসিনা দেশে গুম, খুন, বৈষম্য এবং অপশাসনের মাধ্যমে একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে দেশ অনেকখানি পিছিয়ে গেছে এবং জনগণ ভোগান্তির শিকার হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চাই না। এখন প্রয়োজন সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা—এবং সেই ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন। আজকের রায় সেই পথচলার একটি মাইলফলক।”
তিনি আরও যোগ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আইনের শাসন, ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং ন্যায়ভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ। এই বিচার সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে।
দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়










