চীন থেকে শুধু করোনা ভাইরাসই আসছে না!
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
চীন থেকে শুধু করোনা ভাইরাসই আসছে না। করোনা ভাইরাস যা দুই মাস আগে চীনের উহান প্রদেশে সৃষ্ট হয় তা এখন সারা বিশ্বের সংকটাবস্থার সৃষ্টি করেছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জনস্বাস্থ্যের সংকটের সময়ে উহান সংক্রমণটি অন্যান্য সংক্রামিত জীবানুকে কীভাবে প্রভাবিত করে এককভাবে আন্তর্জাতিক সমন্বিত প্রচেষ্টাকে সংক্রামিত করেছে। এ জীবানুটি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির যাকে বলা যায় সিসিপি (চায়নিজ কমিউনিস্ট পার্টি) ভাইরাস।
চলতি বছরের জানুয়ারির ৩০ তারিখে একটি সংবাদ সম্মেলনে টিড্রোস আধানম ঘিব্রেসুস, হু (বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা)-এর ডাইরেক্টর জেনারেল নতুন এই উপসর্গ করোনা ভাইরাস যা কভিড-১৯ বলে নামকরণ করা হয়েছে, সে সম্পর্কে বলেন, “জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগের এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা।” পুরো এক সপ্তাহ পরে সিদ্ধান্ত আসে যার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ভীষণভাবে সমালোচনা করা হয়েছে। কি এমন কারণ ছিল এতো বিলম্বের যে ব্যাধিটির জন্য অসংখ্য মানুষের নিরাময়যোগ্য মৃত্যু হলো ?
এর উত্তরটি হচ্ছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার চিকিৎসক টিড্রোস সিসিপি কর্তৃক আক্রান্ত হয়েছিলেন। ব্যাপক জনস্বাস্থ্যেও দিকটি উপেক্ষা করে টিড্রোস বেজিংয়ের কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের সমর্থন করেছেন। অবশেষে কয়েক দিন আগে তিনি চীনা পরিচালক জি জিনপেংয়ের খোলামেলা প্রশংসা করে অবশেষে সত্যিকার কথাটি বললেন যে আসলেই করোনা ভাইরাসটি বেশ বিপজ্জনক। ৩০ তারিখে তার বক্তব্য ছিল, “আমাকে সঠিকভাবে বলতে দিন। এ ঘোষণাটি চীনের প্রতি নো কনফিডেন্স-এর ঘোষণা নয়। একইসাথে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এ-ও বিশ্বাস আছে যে এই রোগ-প্রাদুর্ভাবের ক্ষমতা চীনের রয়েছে।”
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন গুগল, ফেসবুক, টিনচেন্ট, বাইডু, টুইটার, টিকটক, ওয়েইবু, পিন্টারেস্ট এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমগুলোতে করোনা ভাইরাসের সঠিক তথ্য খুঁজেছে” তথ্যসূত্র ম্যানিলা বুলেটিন। কিন্তু দুঃখের বিষয় টিনচেন্ট, বাইডু, টিকটক, ওয়েইবু সবকিছুর ওপর সিসিপি-র নিয়ন্ত্রণ রয়েছে; চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একনায়কতন্ত্রের এবং কমিউনিস্ট পার্টির ক্ষমতা সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এবং ভুল তথ্য প্রচারের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
চীন সফরের পর পরই হু-এর মহাপরিচালক উচ্ছসিত প্রশংসায় ফেটে পড়েন, “এটি সিসিপি-র বিশেষ ব্যবস্থা”, “চীন সফরের পর আমি বার বার বলেছি, চীন সরকারের প্রশংসা করছি, তারা এই ছোঁয়াছে ব্যাধিটি নিরাময়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পেরেছে চীনা জনগণ সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দিক দিয়ে যত ক্ষতিগ্রস্তই হোক না কেন।”
তিনি তাঁর বক্তব্য পড়েই যাচ্ছিলেন, এ রোগের প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথেই চীন তা সনাক্ত করে, ভাইরাসটিকে আলাদা করে ফেলে এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাথে যেভাবে মত বিনিময় করে, তা প্রশংসার দাবী করে। চীনের স্বচ্ছতা এবং অন্যান্য দেশের প্রতি সমর্থন তার কমিটমেন্টেরই প্রকাশ। চীনা নাগরিকদের মোটা দাগে এসব শব্দাবলী পড়তে যদি বাধা দেয়া না হত, তাহলে তারা হয় কাঁদত নয়তো হাসত।
সিসিপি-তে আক্রান্ত টিড্রোস “একটি মডেল রাষ্ট্র চীন” হিসেবে উল্লেখ করেন যে উদারনৈতিক গণতন্ত্রে উত্তীর্ণ সে যে কোন বিপজ্জনক অবস্থাকে মোকাবিলা করতে পারে। কিন্তু কেন্দ্রীভূত, পিপিলস্ রিপাবলিক, ওপর থেকে নিয়ন্ত্রিত এই মডেল চীন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিরোধে সামাজিক সংস্থাগুলোর ক্ষমতা ব্যবহারকে গলা টিপে ধরেছে, চীনের জি সাংবাদিকতা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বেসরকারি সংস্থাগুলোকে, ন্যায় বিচার পাবার সংস্থাগুলোকে ও অন্য সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদেও অবদান রাখার পথকে ক্রমেই ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে গিলে ফেলছে যেগুলো এই সংক্রমণ ব্যাধিকে রোধ করার অবদান রাখতে পারত। শি-এর ডিজিটাল বুদ্ধিমত্তা সংগ্রহের প্রচারণা যে সময় বিশ্বনাগরিকদের জন্য বায়োমেট্রিক মিলনমেলার আয়োজনে ব্যস্ত সে সময় এই ডেটা মহামারীটি এসব কাজে খুব কমই সাহায্য করছে বলে দেখা যায়।
মডেল চীনকে অসম্মান বা অপমান না করার বাস্তব প্রচেষ্টা নিয়ে টিড্রোস বারবার জোর দিচ্ছিলেন যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীন ভ্রমণে বা সেখানে ব্যবসা করতে কোন বাধা দেয়নি। যদিও উত্তর কোরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত সবাই ভালভাবেই অবগত যে চীন ভ্রমণ এবং সেখানকার কোন নাগরিককে অন্য দেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ইতিপূর্বেই বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বেইজিংয়ের জন্যই জল বহন করেছেন আর তাইওয়ানের পর্যবেক্ষকের মর্যাদা করে যে স্বাধীনতাপ্রেমী তাইওয়ান ২০১৬ সালের নির্বাচনে শি ইং-ওয়েনকে প্রেসিডেন্ট বানায়। বর্তমান জনস্বাস্থ্য সংকটের চেয়েও এই অসামঞ্জস্যতা বেশি করে প্রকাশ পেয়েছে।
হু এখন নির্ভুল একটি দয়া দেখাচ্ছে সিসিপি ভাইরাসের প্রতি এবং সংক্রমণের প্রতি যা সাদা চোখেই দেখা যাচ্ছে। ইথিওপিয়া, যেখানে বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থার মহাসচিবের বাড়ি, সেখানে চীন গত ১৮ বছরে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে। পৃথিবীর অন্যান্য দরিদ্র দেশের মতো ইথিওপিয়াও চীনের একটি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।
একধরণের বলপ্রয়োগের কৌশল অবলম্বন করে চীন আন্তর্জাতিক নীতিমালা ভেঙে আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভের জন্য চেষ্টা করছে। কিছুদিন আগে চীনের মানবাধিকারকে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল বিভিন্ন দিক দিয়ে অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় অত্যন্ত স্বল্প বলে দেখেছে যেখানে তিন মিলিয়ন মুসলিমকে সংরক্ষিত শিবিরগুলোতে মুসলিমদের রাখা হচ্ছে ভোকেশনাল শিক্ষার নামে। আর চীন সরকার এসবকে তার সরকারের মানবাধিকারের ধরণ বলে অভিহিত করছে।
চীনের এই হাত-বদ্ধকরণ, আমলাতান্ত্রিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উদ্দেশ্যের করোনাভাইরাস হয়ত একদিন পেরিয়ে যাবে। হয়ত এই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য আবারো স্বাভাবিক গতিতে চলবে। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যাবে, কীভাবে এই করোনা জীবাণুটি প্রসারলাভ করল, আরো কতো বড় ধরণের ক্ষতি এটি করবে, মুক্ত সমাজগুলো চীনের দুঃখ-ভারাক্রান্ত এই ওকালতি কি মেনে নেবে এবং তার তৈরি যুক্তিগুলো বিশ্বের মুক্ত সমাজ কীভাবে গ্রহণ করবে ? এখন এটিই দেখার বিষয়।
(তথ্যসূত্রঃ দ্যা ওয়েস্টার্ন জার্নাল)


crimediarybd1








