করোনা ভাইরাস;আতংকিত না হয়ে সচেতন থাকতে আল্লামা বাবুনগরীর আহ্বান

আ.ন.ম আহমদ উল্লাহ

করোনা ভাইরাস;আতংকিত না হয়ে সচেতন থাকতে আল্লামা বাবুনগরীর আহ্বান

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে আতংকিত না হয়ে মহান আল্লাহ তায়া’লার উপর ঈমান এবং আকিদা বিশ্বাস ঠিক রেখে সচেতন থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

২২ মার্চ রবিবার সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী বলেন,পশ্চিমা মিডিয়ার কারসাজিতে করোনা ভাইরাস আজ পুরো বিশ্ব এক আতংকের নাম হয়ে দাড়িয়েছে।
 এ ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে ইসলামের নির্দেশনা ও আকিদা-বিশ্বাসের উর্ধ্বে গিয়ে আজ আমরা মিডিয়ার তালে তাল মিলাচ্ছি। মিডিয়া করোনা ভাইরাস নিয়ে এতো বেশি মাতামাতি করছে যে,বর্তমানে কেহ করোনায় আক্রান্ত হলেও তা কারো নিকট প্রকাশ করতে চাচ্ছে না। এমনকি মিডিয়ার থাবা থেকে বাঁচতে করোনায় আক্রান্ত রোগী হসপিটাল থেকে পালিয়ে নিজেকে লুকাতে চাচ্ছে। কেহ করোনায় আক্রান্ত হলে মিডিয়া তাকে নিয়ে এমনভাবে লাফালাফি করছে যার দরূন তার পরিবার,সমাজ,রাষ্ট্র সব কিছু থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। পশ্চিমা মিডিয়ার এ পরিকল্পিত কারসাজিতে পুরো বিশ্ব যেন আজ অবরুদ্ধ। 

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন,মিডিয়ার অতি প্রচারের দরূন আজ মানুষ কর্মক্ষেত্রে না গিয়ে নিজ ঘরে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখছে,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় অফিস আদালত বন্ধ হচ্ছে। ব্যবসা বানিজ্য সহ সবকিছুতেই এর প্রভাব পড়ছে। এর দরূন বিশ্বময় যেই অর্থনৈতিক সংকট তৈরী হতে যাচ্ছে তা কেটে উঠতে হিমশিম খেতে হবে।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন,অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে,এ ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে মসজিদে জামাত সহকারে নামাজ পড়তে নিষেধ করা হচ্ছে,জুমা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।কুরআন ও হাদীসের ওয়াজ-মাহফিল বন্ধ করা হচ্ছে।  কিন্তু কই!অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উপসনালয়গুলো বন্ধের তো কোন এতো আওয়াজ উঠছেনা!

ওয়াজ মাহফিলে লোক সমাগমের দরূন যদি তা বন্ধ করতে হয় তাহলে পুরো দেশের বাজারগুলোতে তো লোক সমাগম আরো বেশি।সেগুলোর কি অবস্থা হবে !গার্মেন্টসে কি লোক কম?কোন গার্মেন্টস তো বন্ধ হয়নি!

মসজিদে কম যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে কিন্তু মন্দির প্যাগোডার কথা তো তেমন বলা হচ্ছে  না!

হাদীস শরীফে আছে,হযরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন আযাব-গযব দেখলে সাথে সাথে মসজিদে যেতেন।আর আজ মসজিদে যেতে বারন করা হচ্ছে। একটু গভীর দৃষ্টিতে চিন্তা করলেই বুঝা যায় এই করোনা ভাইরাস নিয়ে ইহুদি খ্রিস্টান আর পশ্চিমা মিডিয়াগুলো তাদের হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কতটা উঠেপড়ে লেগেছে।

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে মসজিদ বন্ধের কোন যৌক্তিকতা নেই। এই নাজুক মুহূর্তে মসজিদে মসজিদে বিশেষ দুআ কুনুতে নাজেলা পাঠ এবং মাদরাসায়  বিভিন্ন দুআ-দরূদ খতমে কোরআন শরীফ খতমে বুখারী শরীফ দোয়ায়ে ইউনুসের আয়োজন করে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে মহান প্রভূর দরবারে কায়মনোবাক্যে রোনাজারি সহিত দুআ করতে হবে।

মহামারি এ সব তো আসছে আল্লাহ তায়া’লার নাফরমানি, অবাধ্যতা আর ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডের দরূন। তাই এ মুহুর্তে সারা দেশে ইসলাম বিরোধী সকল কার্যক্রম বন্ধ করা সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য। 

রোগীর দেখাশোনা ও সেবা-শুশ্রূষাও একটি ইবাদত উল্লেখ করে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা দিতে ডাক্তারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রোগীর সেবা-শুশ্রূষা করা, তাকে সান্ত্বনা দেওয়াকে সর্বোচ্চ সৎকাজ এবং গ্রহণযোগ্য ইবাদত হিসেবে ঘোষণা করেছেন। রাসুল (সা.) স্বয়ং রোগীদের ঘরে গিয়ে তাদের দেখাশোনা করতেন এবং তাদের সঙ্গে এমন কথা বলতেন যাতে তাদের মনে প্রশান্তি আসত, দুশ্চিন্তা হালকা হয়ে যেত। হাদীস শরীফে আছে,রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা ক্ষুধার্তদের অন্ন দাও, রোগীদের সেবা করো এবং বন্দিদের মুক্তি দাও।

আপনারা সেবার মহৎ কাজ করে যাচ্ছেন। এখলাছ ও নিষ্ঠার সাথে সেবার কাজ চালিয়ে যান, আল্লাহ তায়া’লার নিকট এর উত্তম বিনিময় পাবেন।

গান, বাদ্যবাজনা,বেপর্দা জেনা-ব্যভিচার, হত্যা-লুণ্ঠন,দুর্নীতি-চাঁদাবাজি,সুদ-ঘুষ,
আত্মসাৎ,মদ-জুয়া, জুলুম-নির্যাতনসহ সব অন্যায় কাজ ছেড়ে মহান প্রভুর দরবারে খাটি দিলে তাওবা,দুআ কান্নাকাটি করুন। এবং ও নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন। এবং আতংকিত না হয়ে সচেতন থাকা সহ এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরী  দিকনির্দেশনা মেনে চলতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।