রাজশাহীতে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক

নগর এখন জুয়া মাদকের রাজত্ব ব্যবসায়ীর ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট! মাদক বিক্রির কারণে এলাকার যুবকরা ব্যাপকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ছে। দ্রুত এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। মাদকের ভয়াল থাবায় গ্রাস হয়ে গেছে। প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপই পারে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে।

রাজশাহীতে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

পাভেল ইসলাম মিমুল রাজশাহী হতেঃ

এক সময় যে নগরী শিক্ষা,সংস্কৃতি ও শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত ছিল সেই নগরী আজ জুয়া ও মাদক নামক দুটি মরণ ছোবলের থাবায় আক্রান্ত। এক অদৃশ্য আগ্রাসনে নিঃশব্দে গিলে খাচ্ছে এই অপসংস্কৃতি আমাদের সমাজ,পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে।

নগরীর অলিগলি,আবাসিক এলাকার ফাঁকা ফ্ল্যাট,কিছু চায়ের দোকান এমনকি কিছু তথাকথিত ক্লাব বা প্রতিষ্ঠানের আড়ালেও চলছে জুয়ার আসর ও মাদক সেবনের মহোৎসব।প্রতিনিয়ত তরুণদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে এই জালে,আর সেই জাল বুনছে এমন এক চক্র,যাদের শিকড় প্রশাসনের অগোচরে ভয়াবহভাবে বিস্তৃত।এই জুয়া ও মাদকের যোগান দিতে গিয়ে নগরীতে বাড়ছে ছিনতাই,
চুরি,খুন,অপহরণসহ নানা ধরনের অপরাধ অর্থনৈতিক ভাবে ভেঙে পড়ছে পরিবার,সমাজে বাড়ছে অবিশ্বাস, অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা। মাদকে আসক্ত হয়ে অনেক তরুণ আজ হয়ে উঠছে অপরাধী,কিংবা হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের দিশাহীন গন্তব্যে।  নগরীর মধ্যে মাদকের অন্যত্তমঘাটি,মতিহার,বোয়ালিয়া রাজপাড়া,কাশিয়াডাঙ্গা,শাহমখদুম,চন্দ্রিমা,কাটাখালি, বেলপুকুর থানা অঞ্চল। এই অঞ্চলে ছোট বড় মিলে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ জন মাদক কারবারী রয়েছে। সেই কয়েক যুগ ধরে এ অঞ্চল গুলো মাদকের স্বর্গরাজ্য।পদ্মা নদী ঘেরা রাজশাহী শহরের কয়েকটি থানা সীমান্তবর্তী ভারতের সংলগ্ন হওয়ায় মাদকে ছয়লাব হয়েছে। 

নগর জুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান চললেও এই থানা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এখনও অধরা। অদৃশ্য এক ‘হোয়াইট কালার’ গডফাদারের ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট।হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। 

মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়া'র ভিশন,দেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, অবৈধ পাচাররোধে এনফোর্সমেন্ট, আইনী কার্যক্রম জোরদার, মাদকবিরোধী গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দেশে মাদকের অপব্যবহার কমিয়ে আনার মিশন নিয়ে কাজ করছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এই ভিশন ও মিশন নষ্টে কাজ করছেন কতিপয় অসাধু কর্মকর্তারা।

সরকারের অর্জন ও সুনাম বিনষ্টে এসব অসাধু কর্মকর্তারা।মাদক কারবারি বা গডফাদারা গ্রেফতার না হলেও সেবন কারিকে আটক করা হচ্ছে। 

বর্তমানে এই থানা অঞ্চলে এক বোতল ফেনসিডিলের দাম ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা। আর এই টাকা যোগাড় করতে দিন রাত এক করে ফেলছে মাদক সেবিরা।সমানতালে প্রকাশ্যে চলছে মাদক কেনাবেচা।সেখানেই বসে মাদক সেবনও চলছে।টাকা দিলেই যেকোনো বয়সের কেউ পেতে পারে হেরোইন,ইয়াবা,ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদক।অনেক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও দেখা যায় দেদারসে মাদক নিতে। তাদের এই মাদক বিক্রির হাটে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ।অনেকেই বলছেন রাজনৈতিক নেতাদের শক্তি তাদের ছায়া দিয়ে রেখেছে।এদের বিরুদ্ধেও মাদকসহ নানা অপরাধে ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,প্রকাশ্যেই চলছে মাদক বিক্রি। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। তবে স্থানীয়া বলছেন,এসব মাদক ব্যবসায়ীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করছে সন্ত্রাসী,ছিনতাইকারী ও চোরেরা।কেউ প্রতিবাদ করলেই নেমে আসে নির্যাতন ও হয়রানি। এদের কারণে এলাকায় বেড়েছে চুরি ও ছিনতাই। যুব সমাজ ধ্বংসের মুখে। প্রতিবাদ না হওয়ায় দিন দিন তাদের দাপট বেড়েই চলেছে অন্যদিকে প্রতিবেদক গোপনে,হরিপুর,কাঠালবাড়িয়া, পাঁচানী মাঠ,পঞ্চপট্টি,তালাইমারী বালুর ঘাট,বুধপাড়া  ,বালিয়া পুকুর,ভদ্রা,ভুবন মোহন পার্ক,আরডিএ মার্কেটের ছাদ,বর্ণালী,হেঁতেমখা,আইডি,বাগানপাড়া,বহরমপুর ডাঁসমারী,জাহাজ ঘাট,মিজানের মোড়,আসাম কলোনি, ডাবতলা,ছোটবনগ্রাম,চকপাড়া,মরসইল বাচ্চুর মোড়, ভারালি পাড়া নওদাপাড়া টার্মিনাল,নওদাপাড়া বাজার, চৌমুহনী বাজার,টাঙ্গন এলাকায় ঘুরে ভিন্ন চিত্র দেখেন।
প্রকাশ্যেই হাতে মাদক তুলে দিচ্ছেন সেবনকারীদের। এলাকাবাসীদের অভিযোগ,বাড়ির সামনেই যেন মাদকের হাট বসেছে।প্রতিদিন ফেনসিডিল,হেরোইন,গাঁজা, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ নানা মাদক কিনতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছে।এ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছে ২০ থেকে ৩০ জন মাদক কারবারি। দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করলেও অনেকেই এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। স্থানীয়রা বলেন,মুরসইল বাচ্চুর মোড়ের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আলো,সম্রাট,রাব্বি,রফিক,ফাইজার,রজব, আতর,হাজরা পুকুর ডাব তলার মৃত আব্দুল খালেকের স্ত্রী শেফালী,খালেকের স্ত্রী শ্যামলী,মামুন ও সুমন,মালদা কলোনির এলাকার আরমানের ছেলে জয়,সবুজ,ফয়সাল আব্দুল,এনামুল, হাবিব,সুজানগর এলাকার ফয়সাল,ছোট বোন গ্রামের বল এলাকার লিজার,রাফি,কানন,মিজানের মোড় এলাকার মৃত আব্দুলের ছেলে জ্যাকা।এদের নেতৃত্বে রমরমা ব্যবসা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যেই বলেন,পুলিশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করে ব্যবসা চালায়। এদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর দাবী,মাদক বিক্রির কারণে এলাকার যুবকরা ব্যাপকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ছে। দ্রুত এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। মাদকের ভয়াল থাবায় গ্রাস হয়ে গেছে। প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপই পারে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে। আমরা প্রশাসনের দৃঢ় পদক্ষেপ কামনা করছি। 

এই এলাকায় গুলোতে মাদক নির্মূল করতে হলে মুরসইল বাচ্চুর মোড়ের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আলো,হাজরা পুকুর ডাব তলার মৃত আব্দুল খালেকের স্ত্রী শেফালী,খালেকের স্ত্রী শ্যামলী,মালদা কলোনির এলাকার আরমানের ছেলে জয়,মিজানের মোড় এলাকার মৃত আব্দুলের ছেলে জ্যাকা। টাঙ্গন এলাকার সাথীকে গ্রেপ্তার খুব জরুরী। 

জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র উপ পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, বিগত সময়ের তুলনায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকায় মাদক ব্যবসা অনেকাংশে কমে এসেছে। প্রতিনিয়ত মাদক বিরোধী অভিযান অব্যহত রয়েছে। প্রতিদিন থানা পুলিশ এবং ডিবি পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক কারবারিদের মাদকসহ গ্রেপ্তার করে নিয়মিত মামলা দায়ের করছে। তালিকা ভূক্ত মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে। তাদের কে পুলিশ নজরদারিতে রেখেছে। মহানগরবাসীর সহযোগিতা পেলে ক্রমান্বয়ে মাদককে জিরোতে নামিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব।
বিগত একবছরের অপরাধ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে প্রতি মাসে আগের তুলনায় অপরাধ কমছে। বর্তমানে পুলিশ তথাকথিত সোর্সের বিপরীতে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অভিযান পরিচালনা করছে ফলে অপরাধী সনাক্ত এবং গ্রেফতারের হার অনেক বেড়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) রাজশাহী বিভাগের উপ-পরিচালক মো: লোকমান হোসেন বলেন,প্রতিনিয়ত মাদক বিরোধী অভিযান অব্যহত রয়েছে। অভিযানে মাদক উদ্ধার করা হচ্ছে আটক করা হচ্ছে। তালিকা ভূক্ত মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম