তালেবানদের সাথে পাকিস্তানী গোয়েন্দাবাহিনীর যোগাযোগের তথ্য ফাঁস!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কাবুল : এ তালেবান কর্মকর্তা পাকিস্তানী গোয়েন্দাবাহিনীর সাথে আইএসআই-এর যোগসূত্রের একটি বিষয় একটি পত্রের মাধ্যমে মিডিয়ার কাছে তুলে ধরে।
“আমি শান্তির বিষয়ে একটি মিটিংয়ে কাতারের আমীরের দ্বারা আমন্ত্রিত হই। যখন আমি কাতারে যাই তখন কোয়েটার অবস্থা বীষণ কারাপ ছিল। পাকিস্তানে তালেবান প্রতিনিধিদের সাথে আইএসআই-য়ের তখন যোগাযোগ ছিল। কাতারভিত্তিক তালেবানের নেতা মোল্লা ব্রাদারের সাথে যোগাযোগ থাকলেও পর্দার আড়ালে ছিল আইএসআই। আসলে আইএসআই-ই তালেবানদের কার্যালয়ের যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিত। এমনকি তালেবান প্রতিনিধিরা পাল্লা দিয়ে কে কার আগে তাদের সাথে সম্পর্ক গড়বে তার প্রচেষ্টায় লিপ্ত ছিল।” লেখকের নাম প্রকাশ না করে চিঠিটি পড়া হয়েছিল।
এ চিঠিটিতে আরো উল্লেখ ছিল, আইএসআই দলের রাজনৈতিক অংশটি কাতারের পাকিস্তানী দূতাবাসে তালেবান প্রতিনিধিদের সব দরজা খুলে দিয়েছিল যেখানে তাদের স্বাধীনভাবে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা যায়। “আর একটি বিষয় আমি লক্ষ্য করি যে, অফিসের কর্মকর্তারা আইএসআইয়ের জন্য একে অপরের ওপর গোয়েন্দাগিরি করছিল। বৃত্তি দিয়ে এবং পাকিস্তানী আইডি কার্ড বানিয়ে দিয়ে আইএসআই তাদের জন্য খাঁটি চর হিসেবে তাদের সুযোগ করে দিয়েছিল।”
চিঠিটিতে আরো উল্লেখ ছিল যে তালেবান সদস্যরা জালিয়াতী ও মিথ্যাচার থেকে মুক্ত ছিল না।

“আমীর খান মুত্তকী, যার আইএসআইদের ওপর বিশাল প্রভাব ছিল, যাকে আইএসআইয়ের রক্ষাকর্তা হিসেবে ধরা হতো তার প্রভাবও দেখা যায়। আমি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর হবার আগের দিন কাতারে আসি। মোল্লা ব্রাদারের একটি ফোনকল পেয়ে রওয়ানা দেই। আমি শুনতে পাই তিনি কাতার কর্মকর্তাদের আইএসআই জেনারেল ফাইজ ও হাসানকে সেই অনুষ্ঠানে আসার জন্য আমন্ত্রন জানাতে বলছিলেন। বৈঠক শুরু হবার আগে পর্যন্ত এই কথাবার্তা চলছিল। ব্রাদার কাতারের কর্মকর্তাদের আইএসআই জেনারেলকে আসার আমন্ত্রণ জানাতে বলে বলছিলেন যে এটি কোন গোয়েন্দা বিষয়ক বৈঠক নয়। এটি একটি রাজনৈতিক বৈঠক যেখানে দাপ্তরিক কাজের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের বৈদেশিক মন্ত্রী শাহ মোহাম্মদ কোরায়শী উপস্থিত থাকতে পারেন।”
চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে এই শান্তি চুক্তিটি শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই আইএসআই-এর পক্ষে ব্রাদারের সাথে স্বাক্ষর করবেন।
“শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় কয়েক ঘণ্টা আগে মৌলভী শাহাবুদ্দিন আত্তাল সাংবাদিকদের বলেন যে এই শান্তি চুক্তিটি ব্রাদারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হচ্ছে না। কিন্তু ব্রাদার ইসলামাবাদ থেকে একটি ফোন পান যেখানে বলা হয় যে স্তানিকজাই এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন না কারণ, আইএসআই-য়ের প্রধান আসীময়ের সাথে তার একটি মৌখিক দ্বিমত রয়েছে যে তিনি ইতিপূর্বে আফগান সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন এবং ভারতে ট্রেনিংপ্রাপ্ত। সুতরাং তিনি স্তানিকজাইকেই ডাকেন চুক্তিতে স্বাক্ষর করার জন্য। স্তানিকজাই বেশ চটপটে। তিনি দ্রæত এই দাওয়াত কবুল করেন।”
“এর পর তারা একটি সুদৃশ্য কামরায় যান যেখানে উর্ধতন কর্মকর্তারা, কাতারীর দলবলেরা, তালেবানরা এবং ইউএস সেক্রেটারী মাইক পম্পেই ছিলেন। যদিও কাতারের উদ্যোক্তা ব্যক্তিবর্গ দরজার কাছে দাঁড়িয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান কিন্তু ব্রাদার ভারপ্রাপ্ত তালেবান কর্মকর্তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তাকে ডাকা হলে তিনি তড়িঘড়ি করে এসে বলেন, ওহো, আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যে এখানে এতো লোক অপেক্ষা করছে।”
তিনি মঞ্চে উঠলে সবাই দাঁড়িয়ে উঠে তাকে সম্মান প্রদর্শন করে। তিনি এসব উপেক্ষা করেন। তখন স্তানিকাজাই আগত অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান।
তথ্যসূত্রঃ আফগানিস্তান টাইমস
http://www.afghanistantimes.af/taliban-official-reveals-groups-ties-with-pakistani-intelligence/


crimediarybd1








