ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের কবলে দেশ: ষড়যন্ত্র না স্বাভাবিক তা খতিয়ে দেখবে সরকার

নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের কবলে দেশ: ষড়যন্ত্র না স্বাভাবিক তা খতিয়ে দেখবে সরকার
ছবি: অনলাইন হতে সংগৃহীত

নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

আশিকুর রহমান মাহী:


পাঁচ দিনে দেশে তিনটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর মিরপুরে পোশাক কারখানা ও কেমিক্যাল গোডাউন, চট্টগ্রাম ইপিজেডের একটি কারখানা এবং সবশেষ দেশের প্রধান বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগুন লেগেছে। এসব ঘটনা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।


ঢাকার বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজসহ অন্যান্য অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।


শাহজালালে  আগুন মানে সারা বিশ্বেই একযোগে পৌছে গেছে  সংবাদ। এই  সংবাদ কাউকে দিতে হয়নি। বিমান বন্দর একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু। অটোমেটিক পৌছে যায় এসব সংবাদ। আর নাশকতাকারীদের এটাই সবসময় টার্গেট থাকে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি।


শনিবার (১৮ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অন্তর্বর্তী সরকার দেশের একাধিক স্থানে সংঘটিত কয়েকটি বড় অগ্নিকাণ্ড নিয়ে জনগণের উদ্বেগ সম্পর্কে সচেতন। আমরা সব নাগরিককে আশ্বস্ত করতে চাই যে, নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় কাজ করছে।’
সরকার জানিয়েছে, ‘ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ বা অগ্নিসংযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা উসকানিমূলক আচরণকে জনজীবন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে দেওয়া হবে না।’
অন্তর্বর্তী সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ‘যদি এই অগ্নিকাণ্ডগুলো ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্র হিসেবে প্রমাণিত হয় এবং এর উদ্দেশ্য হয় আতঙ্ক ও বিভাজন সৃষ্টি করা, তবে তারা সফল হবে কেবল তখনই, যখন আমরা ভয়কে আমাদের যুক্তি ও দৃঢ়তার ওপর প্রভাব ফেলতে দেব। বাংলাদেশ অতীতেও বহু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে এবং আমরা ঐক্য, শান্ত মনোভাব ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আমাদের নতুন গণতন্ত্রের প্রতি যেকোনো হুমকির মোকাবিলা করব। আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।


বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অন্তর্বর্তী সরকার দেশের একাধিক স্থানে সংঘটিত কয়েকটি বড় অগ্নিকাণ্ড নিয়ে জনগণের উদ্বেগ সম্পর্কে সচেতন। আমরা সকল নাগরিককে আশ্বস্ত করতে চাই যে, নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় কাজ করছে।


সরকার জানিয়েছে, ‘ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ বা অগ্নিসংযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা উসকানিমূলক আচরণকে জনজীবন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে দেওয়া হবে না।


অন্তর্বর্তী সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ‘যদি এই অগ্নিকাণ্ডগুলো ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্র হিসেবে প্রমাণিত হয় এবং এর উদ্দেশ্য হয় আতঙ্ক ও বিভাজন সৃষ্টি করা, তবে তারা সফল হবে কেবল তখনই, যখন আমরা ভয়কে আমাদের যুক্তি ও দৃঢ়তার ওপর প্রভাব ফেলতে দেব। বাংলাদেশ অতীতেও বহু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, এবং আমরা ঐক্য, শান্ত মনোভাব ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আমাদের নতুন গণতন্ত্রের প্রতি যেকোনো হুমকির মোকাবিলা করব। আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুনে শত শত টন আমদানি করা পণ্যের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। ঘটনার তদন্ত করতে শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 
বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ মূলত আন্তর্জাতিক আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের অস্থায়ী সংরক্ষণাগার, যেখানে শুল্কায়ন (কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে পর্যন্ত পণ্যগুলো রাখা হয়। শাহজালাল বিমানবন্দরে দুটি আলাদা কার্গো কমপ্লেক্স রয়েছে—একটি আমদানির জন্য, অন্যটি রপ্তানির জন্য। অগ্নিকাণ্ড ঘটে আমদানি অংশে।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই কার্গো ভিলেজে সাধারণত বৈচিত্র্যময় ও উচ্চমূল্যের পণ্যসামগ্রী সংরক্ষিত থাকে। এর মধ্যে রয়েছে:-
ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী
ইলেকট্রনিকস ও যন্ত্রাংশ (মোবাইল, ল্যাপটপ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল টুলস ইত্যাদি)
তৈরি পোশাক ও কাপড়
হালকা ও মাঝারি মেশিনারি
আন্তর্জাতিক কুরিয়ার প্যাকেট ও নথিপত্র (যেমন DHL, FedEx)
অনলাইন কেনাকাটার পণ্য (ই-কমার্স গ্যাজেট, অ্যাকসেসরিজ ইত্যাদি)


কার্গো ভিলেজে সংরক্ষিত এসব পণ্যের আর্থিক মূল্য কোটি কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত আমদানি করা ওষুধ, ইলেকট্রনিক পণ্য ও অন্যান্য সামগ্রীর কারণে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন, এমনটাই আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যদিও বেশিরভাগ পণ্য বিমা কাভারেজের আওতায় থাকে, সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া কঠিন হতে পারে।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়