আন্তঃসীমান্ত চোরাচালানের জন্য উটের স্থলে ড্রোন ব্যবহার হচ্ছে
দেবেশ কে পান্ডে
গোয়েন্দা বিভাগের নজরদারি এবং চিহ্নিতকরণের কারনে কার্যকর বিকল্পগুলি পন্থায় কাজ করছে
বিস্তৃত থর মরুভূমিতে পাকিস্তান ভিত্তিক অপরাধী গ্রুপগুলো এবং সন্ত্রাসবাদী দলগুলি কিছুদিন আগে প্রশিক্ষিত ফুট বাহক কে দিয়ে উটের সাহায্যে মাদক, অস্ত্র এবং অন্যান্য অবৈধ পণ্য পাচার করেছিল। বর্তমানে তারা ড্রোনের মাধ্যমে এ কাজ করছে ।
ড্রোনের সাহায্যে সীমানন্তে চোরাকারবারি করা ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধির পেয়েছে৷ ফলে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি চোরাকারবারি প্রতিরোধের জন্য সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে আধুনিক ব্যবস্থা করার উপায় খুজতে বাধ্য হয়েছে।
ভারতের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী ২০ জুন জম্মুর হিরা নগর সেক্টরের রথুয়া গ্রামের কাছে ইউএভি-কে গুলি করে পাকিস্তানি ড্রোন ভূপাতিত করে। পড়ে যাওয়া পাকিস্তানি ড্রোন থেকে অস্ত্র পাওয়া গিয়েছিল। দেওয়ার সর্বশেষ ঘটনাটি সনাক্ত করা হয়েছিল। এই ড্রোনে আমেরিকান এম, এম, রাইফেল, দুটি ম্যাগাজিন, ৬০ রাউন্ড গুলি এবং সাতটি গ্রেনেড পাওয়া গিয়েছিল ।
এটি প্রথম ঘটনা আন্তর্জাতিক সীমানায় পাকিস্তানে কাছকাছি হীরা নগর সেক্টরে একটি ড্রোন ভূপাতিত করা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি এখনও এই চালানের কাদের উদ্দেশ্য পাঠানো তা সনাক্ত এবং গ্রেপ্তার করতে পারেনি ।
এছাড়াও খবর পাওয়া যায় তিনটি ড্রোনের সংঘর্ষের ফলে আরেকটি অস্ত্রের চালান শনাক্ত হয়। ঘটনাটি পাঞ্জাবের গুরুদাসপুরের ডেরা বাবা নানক এলাকার ধর্মকোট রন্ধাওয়া গ্রামের উপকণ্ঠে ঘটেছিল।
নিরাপত্তা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান চালানটিতে দুটি এমপি -৯ বন্দুক, ছয়টি পিস্তল এবং নকল ₹৪ লাখ মুদ্রা পাওয়া গিয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে পাকিস্তান ভিত্তিক খালিস্তান জিন্দাবাদ ফোর্সের প্রধান রণজিৎ সিং নীতার কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার তাকে অবৈধ কর্মকাণ্ড (প্রতিরোধ) আইনের অধীনে সন্ত্রাসী হিসাবে চিহ্নিত করেছিল ।
তিনি আরো জানান, নিতার আরেক সহযোগী জার্মানি ভিত্তিক গুরমিত সিং। তাকেও সন্ত্রাসী হিসাবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা চিহ্নিত করেছে৷ পাকিস্তানি সংস্থার বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য না নিয়ে অপারেশন পরিচালনা সম্ভব নয় । নিরাপত্তা বাহিনী জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা করছে।
খালিস্তানপন্থী সন্ত্রাসী পরিকল্পনা প্রকাশ হয়েছে
পাঞ্জাব পুলিশ গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর খালিস্তানপন্থী সন্ত্রাসবাদীদের পরিকল্পনা ফাঁস করেছিল। পুলিশ একটি পাঁচটি একে -৪ অ্যাসল্ট রাইফেল, চারটি পিস্তল, ৮ টি ম্যাগাজিন, নয়টি গ্রেনেড, ৩৭২ কার্তুজ, নকল ভারতীয় মুদ্রা এবং পাঁচটি স্যাটেলাইট ফোন এবং দশ লাখ ডলার ভর্তি একটি থলি উদ্ধার করে । পাঞ্জাবের পূর্ব নির্ধারিত জায়গায় পাক নিয়ন্ত্রিত ড্রোন ব্যবহার করে অস্ত্রের ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সন্ত্রাসবাদি নেতা আকাশদীপ সিংহ, বলবন্ত সিং, হরভজন সিং এবং বলবীর সিং কে এই অস্ত্রের চালানসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তদন্ত থেকে ধারণা পাওয়া গিয়েছিল নীতার নির্দেশে এই চালানটিও পাঠানো হয়েছিল। এই অস্ত্র চোরাকারবারিতে নীতার সাথে গুরুমিত সিং বগা জড়িত ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল।
উল্লেখ্য পেডলোড ক্ষমতার একটি ড্রোন চল্লিশ হাজার রুপি থেকে ২ লক্ষ রুপিতে বাজারে পাওয়া যায়। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থাহুলো সীমান্তবর্তী অঞ্চলে গুপ্তচরবৃত্তি কার্যক্রমের জন্য কোয়াডকপ্টারও মোতায়েন করছে। (The Hindu)


crimediarybd1








