নারী ও কন্যাশিশুর নির্যাতন ও ধর্ষণ : করণীয় সম্পর্কে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে

বেশিরভাগ মেয়ে শিশুই যৌন হয়রানি, অ্যাসিড হামলা, অপহরণ, ধর্ষণ ইত্যাদির শিকার হয়। শৈশব থেকেই যেখানে পরিবারটি মেয়ে শিশুর নিরাপদ আশ্রয়স্থল বলে মনে করা হয়, সেখানে তাদের নিরাপত্তা প্রায়ই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। নানা বৈষম্য ও নিপীড়নের কারণে অনেকে নিজ পরিবারে অসহায় হয়ে পড়ে।

নারী ও কন্যাশিশুর নির্যাতন ও ধর্ষণ : করণীয় সম্পর্কে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

বেশিরভাগ মেয়ে শিশুই যৌন হয়রানি, অ্যাসিড হামলা, অপহরণ, ধর্ষণ ইত্যাদির শিকার হয়। শৈশব থেকেই যেখানে পরিবারটি মেয়ে শিশুর নিরাপদ আশ্রয়স্থল বলে মনে করা হয়, সেখানে তাদের নিরাপত্তা প্রায়ই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। নানা বৈষম্য ও নিপীড়নের কারণে অনেকে নিজ পরিবারে অসহায় হয়ে পড়ে।

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেল:

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট দেশে নারী ও কন্যাশিশুর নির্যাতন ও ধর্ষণ নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি এর মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। ঘরে-বাইরে, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বত্রই এর ভয়াবহ শিকার হচ্ছেন কন্যাশিশুসহ সকল বয়সী নারী। নৃশংসতার মাত্রা ও সংখ্যা বিবেচনায় সারা দেশে নারীর প্রতি সহিংসতায় দেশবাসী আতংকগ্রস্থ সময় অতিবাহিত করছে।

এ পরিস্থিতি অগ্রহণযোগ্য। নারী ও কন্যাশিশুর নির্যাতন ও ধর্ষণ, আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না পাওয়া, বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা প্রভৃতি কারণে সামাজিক জীবনে নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হচ্ছে যা সমতাভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থার অন্তরায়।

দেশে মেয়েদের উপর সহিংস কর্মকাণ্ড দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে। উচ্চ বা নিম্ন সমাজের মেয়ে শিশুরাই এই সহিংসতার শিকার হয়। রেলস্টেশন, বাস বা বাস স্টেশনের ভিতরে, নির্জন জায়গা বা রাস্তা, ফাঁকা বাড়ি, বস্তি ইত্যাদি সর্বত্রই সহিংস ঘটনা ঘটে।

পাশাপাশি গ্রামে বাল্যবিবাহও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বেশিরভাগ মেয়ে শিশুই যৌন হয়রানি, অ্যাসিড হামলা, অপহরণ, ধর্ষণ ইত্যাদির শিকার হয়। শৈশব থেকেই যেখানে পরিবারটি মেয়ে শিশুর নিরাপদ আশ্রয়স্থল বলে মনে করা হয়, সেখানে তাদের নিরাপত্তা প্রায়ই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। নানা বৈষম্য ও নিপীড়নের কারণে অনেকে নিজ পরিবারে অসহায় হয়ে পড়ে।

কন্যাশিশু নিপীড়ন সংক্রান্ত আইন থাকা সত্ত্বেও শিশু যৌন নির্যাতন দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাছাড়া যারা এই অপরাধ করে তারা তুলনামূলকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বিচার চাইতে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার প্রায়ই সামাজিক নিন্দার শিকার হয়। ফলে তারা বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে বা তাদের পক্ষে নিতে সক্ষম হয়। দারিদ্র্য, সামাজিক বর্জন বা লিঙ্গ বৈষম্য, ব্যাপক নিরক্ষরতা, সচেতনতার অভাব এবং দুর্বল প্রশাসন বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ, জোরপূর্বক শ্রম, ব্যক্তি পাচারের প্রধান কারণ।

নারীর প্রতি এ ধরনের আচরণ দূর করতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সুপরিকল্পিত কার্যক্রম গ্রহণ করা জরুরি। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী, যাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অর্জন অসম্ভব। নারী ও শিশুর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য ও অধিকার হরণ বিলোপ সাধনে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ।

অভূতপূর্ব রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে সূচিত বৈষম্যবিরোধী ‘নতুন বাংলাদেশে’ এ অঙ্গীকারের গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়নের নিশ্চিয়তা প্রদানে বাংলাদেশ জাতীয় পরিমণ্ডলে সংবিধানের আলোকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট আইন ও বিধিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর করেছে, যার মধ্যে নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও), নারী উন্নয়ন নীতিমালা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রভৃতি অন্যতম। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, নারী বা শিশুদের অনুকূলে বিশেষ বিধান প্রণয়নে রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করা যাবে না। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ৫ এ নারীদের সম-অধিকার এবং তাদের ও কন্যাশিশুদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

 বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সারাদেশে শিশু ও নারীর প্রতি নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার মোট ৩৭০৩টি ঘটনা ঘটেছে। এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির (বিএনডব্লিউএলএ) প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, ৪০ বছরে সারা দেশে নারী ও মেয়েদের প্রতি নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার ২৫৮৮টি ঘটনা ঘটেছে।

বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিস কেন্দ্র (আসক) নয়টি সংবাদপত্র এবং কিছু অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের সাথে রিপোর্ট করেছে যে, ২০২৩ সালের ১১ মাসে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার ৩১৮৪টি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ৬৪ শতাংশ খবর ধর্ষণের ও সহিংসতা বেড়েছে নারীদের। পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন (পিসিএসডব্লিউ) এর তথ্য অনুযায়ী ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের মধ্যে, ৮৭১৫ জন মহিলা ফেক আইডি, আইডি হ্যাকিং, ব্ল্যাকমেইলিং, ফোনে হয়রানি এবং আপত্তিকর বিষয়বস্তু ছড়িয়ে দেওয়ার মতো সমস্যার অভিযোগ করেছেন। ঘএঈঅঋ প্রথমবারের মতো গ্রহণ করেছে সহিংসতার তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ। শুধুমাত্র মেয়ে শিশুদের (০-১৯) বছরের । আর এ বিষয়ে তথ্য নেওয়া হয়েছে ০৮, ০২টি অনলাইন ও ১৪টি স্থানীয় সংবাদপত্র থেকে।

এছাড়াও যৌন হয়রানি ৮৩ এবং ৮৮, পর্নোগ্রাফি ২৮ এবং ১৯, যৌন হয়রানি (অক্ষম মেয়েরা) ৫ এবং ১, বাল্যবিবাহ ২৩ এবং ১৯, বাল্যবিবাহ থেকে উদ্ধার ৮৭ এবং ৬২, যৌতুকের শিকার ৬ এবং ১১, যৌতুকের জন্য হত্যা ৯ এবং ৭, ২ ্৩, ধর্ষণের শিকার ৭২৩ এবং ৫০৮, ধর্ষিত প্রতিবন্ধী মেয়ে ১০০ এবং ৬৭। গণধর্ষণ ১৫৫ এবং ১৪২, ধর্ষণের চেষ্টা ১৬১ এবং ১৩১, ধর্ষণ ৫ এবং ১ দ্বারা সৃষ্ট মৃত্যু, ৪৫ এবং ৩৮টি ধর্ষণের পরে হত্যা, ৪ এবং ৭ ধর্ষণের পরে আত্মহত্যা, ফাঁদে ফেলে ধর্ষিত (প্রেম/প্রতারণার ফাঁদে) ৭১ এবং ৭৯, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ষণ (মা) মসজিদ ) ১০ ও ১০, নির্যাতিত গৃহকর্মী ১২ ও ৯, গৃহকর্মীকে হত্যা ৫ এবং ৩, শারীরিকভাবে নির্যাতন করা ১৮ ও ৬ গৃহকর্মী, নির্যাতনের কারণে গৃহকর্মীদের আত্মহত্যা/নির্যাতন ০ এবং ১, শিক্ষাগত এবং ৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তির শিকার ব্যক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা/মসজিদ) ৪ ও ১০, এসিড হামলার শিকার ১০ ও ৪, অপহরণের শিকার ৮৩ ও ৯৭, অপহৃতদের হত্যা ৮ ও ২, পাচারের শিকার ৬ ও ২, অপহরণের পর উদ্ধার ১০৬ ও ৯৭, অপহরণের পর উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৯৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। স্বামী ৬ এবং ৪ দ্বারা, ইভ টিজিং এর শিকার ৪৭ এবং ৬৫, ২০২২ এবং ২০২৩ সালে ১৮ এবং ৭ নিজের বাড়িতে সহিংসতার শিকার মেয়ে শিশু।

নারী-পুরুষের সমতার আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ অবস্থানে থাকলেও ২০২৪ এ ৪০ ধাপ অবনমন হয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার সাম্প্রতিক প্রবনতা ব্যাপক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার সাথে যুক্ত হয়েছে ধর্মান্ধতা ও ধর্মীয় অপব্যাখ্যা পুঁজি করে নারী ও কন্যাশিশুর বহুমাত্রিক অধিকার হরণ। শিক্ষাঙ্গণসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরে চলমান এ প্রবনতা চরম উৎকণ্ঠাজনক।

অন্যদিকে ধষণবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং পুলিশের ঊধ্বতন কমকতার ‘ধষণ’ শব্দটি ব্যবহার না করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি সুপারিশ পুলিশের অব্যাহত স্বৈরতান্ত্রিক চচার প্রতিফলন, যা অধিকতর উদ্বেগজনক। ধষণের সংবাদ কম করে প্রচারের পরামশ দিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বাস্তবে ধষকের সুরক্ষার পথ প্রশস্ত করতে চাইছেন। আমরা এর জোর প্রতিবাদ জানাই।   নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে সারা দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩৯ জন নারী।

এদের মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২১টি এবং দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮ জন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) কর্তৃক যৌথভাবে পরিচালিত “নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপ ২০২৪” অনুযায়ী দেশের ৭০ শতাংশ নারী অন্তত একবার হলেও শারীরিক, যৌন, মানসিক ও অর্থনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ২০২৪ সালে ৪৯ শতাংশ নারীর ওপর এ ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

১ আরেকটি নির্ভরযোগ্য গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৭২ জন কন্যাশিশু এবং ১১৭ জন নারীসহ ১৮৯ জন বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩০ জন কন্যাশিশুসহ  মোট ৪৮ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।২ ২০২৪ সালে সারা দেশে ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মোট ৪০১ জন নারী। এর মধ্যে ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন ৩৪ জন এবং ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন সাতজন। ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছেন ১০৯ জন।

আমাদের সমাজ বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে নারীর প্রতি নানা ধরনের সহিংসতা রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মহিলার পর্যাপ্ত প্রসবপূর্ব যত্ন বা গর্ভনিরোধক পছন্দগুলির একটি পরিসরের সুযোগের অভাব রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, প্রতি মিনিটে একজন মহিলার গর্ভাবস্থার কারণে মৃত্যু হয়।

প্রায় ৭৫ মিলিয়ন মহিলা যারা তাদের গর্ভধারণকে স্থান দিতে চান তারা কার্যকরভাবে তা করার উপায় নেই। আরও অনেক নারী ও মেয়ে অন্যভাবে শিকার হয়; ১২০ মিলিয়নেরও বেশি মহিলা যৌনাঙ্গ বিকৃতির শিকার হয়েছেন, প্রতি বছর আরও দুই মিলিয়ন ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী আনুমানিক দুই মিলিয়ন মেয়েকে পতিতাবৃত্তিতে প্রবেশ করানো হয়। উপরোক্ত পটভূমিতে নারীর অবস্থার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ একটি ডাটা শীট প্রকাশ করেছে। ২০১৮ সালে আমাদের বিশ্বের নারীদের অবস্থা তুলে ধরেছে।

২০১৮ আমাদের বিশ্বের নারী' শিরোনামের ডাটা শীটটিতে বলা হয়েছে।'গত কয়েক দশক ধরে , বিশ্বজুড়ে নারীরা স্বাস্থ্য, কাজ এবং শিক্ষার মতো ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অর্জন করেছে। ১৯৫০ সাল থেকে, মহিলাদের আয়ু ৪৯ বছর থেকে ৬৮ বছরে উন্নীত হয়েছে। ১৯৬০ এর দশক থেকে, শ্রমশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ ৩৩ শতাংশ থেকে ৫৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ১৯৭০-এর দশক থেকে মহিলাদের সাক্ষরতার হার ৫৪ শতাংশ থেকে ৬৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে৷ এবং ১৯৮০-এর দশক থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া মেয়ে এবং ছেলেদের মধ্যে ব্যবধান ১০০ ছেলেদের প্রতি ৮০ জন মেয়ের থেকে সংকুচিত হয়েছে। এই অগ্রগতি আংশিকভাবে একটি ক্রমবর্ধমান এর কারণে হয়েছে।

দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত গত কয়েকদিনের সংবাদ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শিশু, গর্ভবতী নারী, বিশেষভাবে সক্ষম নারী, কেউই যৌন নির্যাতন ও সহিংসতা থেকে রেহাই পাননি।

মাগুরায় বোনের বাড়ি বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে একজন শিশু (০৬ মার্চ), কুমিল্লায় প্রতিবন্ধী তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে (০৬ মার্চ), মুন্সীগঞ্জে খাবার ও বেলুনের লোভ দেখিয়ে দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার হয়েছেন (০৮ মার্চ), ফরিদপুরে সাইকেলে ঘুড়ে বেড়ানোর কথা বলে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে কিশোরকে আটক করা হয়েছে (০৮ মার্চ), টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দেড় লক্ষ টাকায় শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে (০৮ মার্চ), গাজীপুরে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে (০৯ মার্চ), সীতাকুন্ডে সৈকতে বন্ধুকে বেঁধে রেখে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছে (০৯ মার্চ), নরসিংদীতে তিনদিন আটকে রেখে গর্ভবতী নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে (০৯ মার্চ), চট্টগ্রামে ১০ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার হয়েছেন (১০ মার্চ), জামালপুরে গান শোনানোর কথা বলে পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে (১১ মার্চ)। এছাড়াও জনপরিসরে ধূমপান করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারীদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে (০১ মার্চ), বাসে ডাকাতিকালে নারীদের শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে (১৭ ফেব্রুয়ারি)।

এই ঘটনাগুলো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। ভয় ও সামাজিক চাপের কারণে অনেক বেশি ভুক্তভোগী নীরবে ভুগছে, ঘটনা প্রকাশ বা অভিযোগ করতে পারছে না। অর্থাৎ, বাংলাদেশে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের হার ক্রমান্বয়ে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সহিংসতার এই প্রবনতা খুবই উদ্বেগজনক। নারীকে সহিংসতা থেকে সুরক্ষিত রাখতে না পারলে নারী ক্ষমতায়ন বা সমতা অর্জনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তর করা সম্ভব হবে না। দুর্নীতির কারণে পুরুষের তুলনায় নারী অনেক বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন হন। দুর্নীতি নারীর প্রতি সহিংসতা রোধের বিপরীতে ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নের অঙ্গীকারকে ভূলুণ্ঠিত করে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায়  দেখা যায়, যে সব দেশে জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষময়তায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে, সেসব দেশসমূহে দুর্নীতির ব্যাপকতা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। অথচ, বাংলাদেশে দুর্নীতির কারণে নারীর ক্ষমতায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং নারীরা সহিংসতার শিকার হচ্ছে।  নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ৪৫টি সনাক অঞ্চলে টিআইবির অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সনাক ও ঢাকাভিত্তিক ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস), অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি)Ñএর সদস্যগণ সর্বদা সোচ্চার। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জেন্ডার সমতা, নারীর ক্ষমতায়নে সনাক, ইয়েস, এসিজি ও টিআইবি নিম্নলিখিত দাবিসমূহ উত্থাপন করছে

১. বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও “নতুন বাংলাদেশ”- এর মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং সব ধরনের যৌন নির্যাতন, সহিংসতা ও বৈষম্য প্রতিহত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং এসব অপরাধের সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি অপরাধের শিকার পরিবারকে সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করা। ২. সকল ক্ষেত্রে ও পর্যায়ে নারীর অধিকার নিশ্চিত করা এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন সংস্কার ও বিদ্যমান আইনসমূহের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা। ৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রসহ সকল পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে নারীর নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করা।

সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে পুলিশের ধষণ ও নারী অধিকার হরণ বিষয়ে সংবেদনশীলতা ও প্রশিক্ষণ কাযক্রম জোরদার করতে হবে।  ৪. সকল রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গসংগঠন, পেশাজীবী সংস্থা, সকল প্রকার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নারীপুরুষের সমঅধিকার ও সমমর্যাদার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ঘোষণাসহ চর্চা প্রতিষ্ঠার সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। ৫. টেকসই উন্নয়ন অর্জনের কর্মপরিকল্পনায় অভীষ্ট-৫ (জেন্ডার সমতা) ও ১৬ (শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান) কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধের পূর্বশর্ত হিসেবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণসহ আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা ও নানা অজুহাতে যত্রতত্র হেনস্থা রোধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি রাষ্ট্রকে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন। ৬. নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সকল প্রকার নারী অধিকার হরণের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল প্রতিষ্ঠানকে Ñ বিশেষ করে প্রশাসন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি প্রতিরোধ, শুদ্ধাচার, জবাবদিহিতা ও সার্বিক সুশাসন নিশ্চিত করা।

৭. জেন্ডার সমতা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে নারীর অভিগম্যতা নিশ্চিত, ইন্টারনেট ও প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস সুলভ করা এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। অনলাইনে সহিংসতা ও নির্যাতন থেকে নারীর সুরক্ষা নিশ্চিতে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিশেষায়িত জাতীয় কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা। ৮. যে সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পরিবারে, কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষাঙ্গনে বা সমাজে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ্যে কাজ করছেনÑতাদের উৎসাহিত, সঠিক প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও সুরক্ষা প্রদান করা।  ৯. মহামান্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে সকল প্রতিষ্ঠানে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তাসহ নারীবান্ধব অভিযোগ প্রদান ও নিরসনের ব্যবস্থা থাকতে হবে; নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি বন্ধে ব্যক্তির রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক অবস্থান, মর্যাদা ও প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি করা। ১০. নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ ও নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিতে সাধারণ জনগণের ইতিবাচক মানসিকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কার্যকর প্রচারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা।   ১১. জাতীয় হেল্পলাইন ও অভিযোগ জানানোর হটলাইন নম্বরগুলোর প্রচার ও কার্যকরতা বৃদ্ধি।  

যে অব্যাহত সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্ভর করে নারীর জীবনযাত্রার উন্নতি এবং সমাজে নারীদের সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়ার উপর। আন্তর্জাতিক সম্মেলন, বিশেষ করে ১৯৯৪ সালে কায়রোতে অনুষ্ঠিত জনসংখ্যা ও উন্নয়ন সম্পর্কিত জাতিসংঘ (আইসিপিডি) আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের চতুর্থ সম্মেলন। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত নারী বিষয়ক সম্মেলনে নারীর অগ্রগতি ও সমতার জন্য বৃহত্তর ধাক্কা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে "নারী এবং কন্যা শিশুর মানবাধিকার সর্বজনীন মানবাধিকার লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতার একটি অবিচ্ছেদ্য এবং অবিভাজ্য অংশ এবং সাংস্কৃতিক কুসংস্কার এবং আন্তর্জাতিক পাচারের ফলে সৃষ্ট যৌন হয়রানি ও শোষণ সহ সকল প্রকারের মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং মানুষের জগৎ। "উপরের বিবৃতি স্পষ্টভাবে লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা বাতিল করার পক্ষে। নারীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য সহিংসতা লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। পপুলেশন রেফারেন্স ব্যুরো পারিবারিক সহিংসতাকে নিম্নরূপ বর্ণনা করে: ১৯৭৯ কনভেনশন অব ক্লাইমিনেশন অব সব ধরনের বৈষম্য থেকে। ১৯৯৫ সালের জাতিসংঘের চতুর্থ বিশ্ব সম্মেলনে নারীদের বিরুদ্ধে সরকারগুলি মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসাবে স্বীকৃত সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। প্রমাণ পাওয়া যায় যে, নারীর প্রতি সহিংসতার এক প্রকার, গার্হস্থ্য সহিংসতা বিশ্বের সব জায়গায় ঘটে। সংজ্ঞায়িত হিসাবে, গার্হস্থ্য সহিংসতা হল ব্যক্তিগত ক্ষেত্রের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি সহিংসতা, সাধারণত ঘনিষ্ঠতা, রক্ত বা আইনের মাধ্যমে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের মধ্যে।

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও দুর্নীতির কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশে দুর্নীতির কারণে নারীর ক্ষমতায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে বাড়ছে নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পুরুষের দুর্নীতিলব্ধ সম্পদ আড়াল করতে নারীকে ব্যবহার করা হয়। শত প্রতিকূলতা জয় করে প্রশংসনীয়ভাবে অনেক নারী স¦াবলম্বী হয়ে ওঠার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতেও প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু এতোসবের পরেও নারীর প্রতি সহিংসতা থেমে নেই। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে নারীরা নিজ পরিবারে, সমাজে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, রাস্তাঘাটে এমনকি নিজ কর্মক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে নানারূপ হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। দুর্নীতির কারণে নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌন অপরাধে অভিযুক্তদের বিচার হয় না, বরং ভুক্তভোগী অধিকতর ঝুঁকির সম্মুখীন হন। অপরাধীরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান অবস্থানে থেকে বিচার প্রক্রিয়া রুদ্ধ করে নারীর প্রতি সহিংসতা স্বাভাবিকতায় রূপান্তর করেছে। টিআইবি পরিচালিত জাতীয় খানা জরিপ ২০২৩ এ দেখা যায়, নারী, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধিতাসহ ব্যক্তিদের সেবা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি ও ঘুষের শিকার হওয়ার অর্থ তাদের সীমিত আর্থ-সামাজিক সক্ষমতাকে সীমিত করে ফেলছে, যার ফলে তারা আরো বেশি প্রান্তিক হয়ে পড়ছেন। সেবাগ্রহণকারী হিসেবে ৩৪.৬ শতাংশ নারী দুর্নীতির শিকার হন। পুরুষ সেবাগ্রহীতার তুলনায় নারী সেবাগ্রহীতাদের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য হারে বেশি দুর্নীতির শিকার৩ হওয়ার ফলে এসব খাতে নারীদের অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের মতে, বেশিরভাগ গার্হস্থ্য সহিংসতা পুরুষদের দ্বারা নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত হয় যা তার মানসিক, শারীরিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সুস্থতার উপর প্রভাব ফেলে। অনেক মহিলা এই ধরনের নির্যাতন সহ্য করে কারণ তারা প্রতিবাদ করলে তাদের স্ত্রী বা বর্ধিত পরিবার বা উভয়ের দ্বারা প্রতিশোধ নেওয়ার ভয় পান। পুরুষদের উপর তাদের অর্থনৈতিক নির্ভরতা, পারিবারিক সহিংসতার ব্যাপক সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং এর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আইন ও প্রয়োগের অভাব দ্বারা গার্হস্থ্য সহিংসতার জন্য মহিলাদের দুর্বলতা আরও জোরদার হয়েছে। পিআরবি ডাটা শীটের একটি টেবিল দেখায়: নির্বাচিত দেশগুলিতে মহিলাদের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য সহিংসতার মাত্রা, ২০০৫- ২০১৭। অভিযোগ করা হয়েছে অপব্যবহার। কম্বোডিয়া ১৬% মহিলা একজন স্ত্রীর দ্বারা শারীরিকভাবে নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন (২০১৬, মহিলাদের বয়স ১৬-৪৯)। কলম্বিয়া ১৯% মহিলারা তাদের সঙ্গীর দ্বারা শারীরিকভাবে নির্যাতিত হওয়ার রিপোর্ট করেছেন (১৯৯৫) ডেমো গ্রাফিক এবং স্বাস্থ্য জরিপ সম্পর্কে ৬০৯৭ জন মহিলার বয়স (১৫-৪৯)৷ মিশরের ৩৫% মহিলারা তাদের স্বামীর দ্বারা তাদের মারধরের অভিযোগ করেছেন৷ বিবাহ (১৯৯৫ সর্বদা বিবাহিত মহিলাদের, বয়স ১৫-৪৯)। ভারতে বর্তমানে বিবাহিত পুরুষদের ৩০% স্বীকার করে যে তাদের স্ত্রীদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে (১৯৯৬,৬,৯ড়২ বিবাহিত পুরুষদের বয়স ১৫-৬৫ বছর বয়সী উত্তর প্রদেশের পাঁচটি জেলায়)। উগান্ডা ৪১% মহিলারা পার্টনার দ্বারা মারধর বা শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার রিপোর্ট করেছেন, ৪১% বা পুরুষরা সঙ্গীকে মারধর করেছেন (২০১৭), মহিলারা ২০-৪৪ বছর বয়সী এবং দুটি জেলায় তাদের অংশীদাররা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৮% মহিলারা তাদের সঙ্গীর কাছ থেকে কমপক্ষে একটি শারীরিক সহিংসতার রিপোর্ট করে (২০১৬, বিবাহিত বা সহবাসকারী দম্পতি)। ডব্লিউএইচওর একটি নথিতে নারী গৃহকর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে নিম্নরূপ বর্ণনা করা হয়েছে: গৃহকর্মীরা তাদের নিয়োগকর্তাদের দ্বারা শারীরিক নির্যাতন এবং ধর্ষণ সহ সহিংস হামলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অভিবাসী নারীরা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কারণ নিয়োগকর্তারা বেতন, পাসপোর্ট এবং ব্যক্তিগত নথি আটকে রাখতে পারেন। এটি সেইসব দেশে কর্মীদের আন্দোলনকে সীমিত করে যেখানে এলিয়েনদের তাদের আইনি অবস্থানের প্রমাণ বহন করতে হয়, এইভাবে তাদের দূতাবাসগুলির সুরক্ষা দাবি করার যে কোনও প্রচেষ্টাকে বাধা দেয়। কিছু দেশে গৃহকর্মীরা শ্রম আইনের আওতায় পড়ে না। যখন আইন প্রযোজ্য হয়, শ্রমিকরা তাদের অধিকারের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নাও হতে পারে, বিশেষ করে সেইসব দেশে যেখানে হোস্ট ভাষা তাদের কাছে অজানা বা তারা তাদের সামাজিক গোষ্ঠী থেকে রেহাই পায়। এখন দেখা যাক প্যান-আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন (চঅঐঙ): নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করতে সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করছে৷ প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন (চঅঐঙ) ১৬টি সদস্য দেশের সাথে কাজ করছে নারীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য সহিংসতা মোকাবেলায়। চঅঐঙ তার জটিল সামাজিক সমস্যাকে কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে পারে এমন প্রতিরোধ এবং সহায়তা কৌশলগুলি ডিজাইন করার জন্য সরকারী এবং বেসরকারী উভয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি দ্বিমুখী পদ্ধতি ব্যবহার করে। স্থানীয় পর্যায়ে, এটি সমন্বিত কমিউনিটি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চায় যেখানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, আইনি ব্যবস্থা, পুলিশ, গীর্জা, এনজিও এবং অন্যান্য সম্প্রদায়-ভিত্তিক গোষ্ঠীগুলি নিয়মিতভাবে মিলিত হয় এবং গার্হস্থ্য সহিংসতার একটি সমন্বিত প্রতিক্রিয়া পরিচালনা করে। জাতীয় পর্যায়ে, এটি গার্হস্থ্য সহিংসতার কার্যকরভাবে সাড়া দেওয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা জোরদার করার জন্য ডিজাইন করা আইন ও নীতি গ্রহণকে উন্নীত করতে চায়। উপরন্তু, এই প্রকল্পটি নারীর প্রতি সহিংসতা যে অগ্রহণযোগ্য তা জানাতে এবং পুরুষদের মৌলিক শ্রেষ্ঠত্ব তৈরি করে এমন সামাজিক মনোভাব এবং বিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য গণমাধ্যমের সাথে যোগসূত্র স্থাপন করে, যা তাদেরকে নারীর আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার প্রদান করে। গার্হস্থ্য সহিংসতা নির্মূল করা যায় তার একটি দৃঢ় প্রমাণ হল সম্প্রদায় স্তরে সাফল্যের গল্পের অস্তিত্ব। চঅঐঙং প্রকল্পটি ক্ষুদ্র পরিসরে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং হস্তক্ষেপের মডেলগুলিকে পাইলট করে সেই সাফল্যের গল্পগুলিকে বীজ দিতে চায়। পরবর্তীকালে, বিস্তৃত-ভিত্তিক সংস্কার অর্জনের জন্য এগুলিকে বড় করা যেতে পারে। এই প্রকল্পটি ডিজাইন করা হয়েছে এবং নারী সংস্থা এবং অন্যান্য এনজিওগুলির সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় কার্যকর করা হচ্ছে, যারা তাদের নিজ নিজ দেশে লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার উপর ব্যাপকভাবে কাজ করেছে।

অতিদ্রুত নারী ও শিশুদের উপর যে কোন সহিংসতা রোধে সরকারকে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহনের জন্য সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা । পাশাপাশি আপামর নারী ও শিশু নাগরিকবৃন্দ তাদের সুরক্ষার দাবী জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// স্পেশাল