সরকারি গাড়ি ব্যবহারে নিয়ম ভাঙ্গা চলবে না

নৈতিকতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে সমাজে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সরকারি গাড়ি ব্যবহারে নিয়ম ভাঙ্গা চলবে না
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

আরিফুর রহমান শুভ:

কর্মকর্তাদের নিয়ম ভেঙে (প্রাধিকারবহির্ভূত) গাড়ির ব্যবহার কঠোরভাবে বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ইতঃপূর্বে একই বিষয়ে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সচিবদের পত্র দেওয়া হয়েছে। 

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মঙ্গলবার এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়। তবে কোন কর্মকর্তা সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে নিয়ম ভেঙে সরকারি গাড়ি অপব্যবহার করছেন তা নির্দেশনায় বলা নেই। এখানেই সমস্যা বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা। তারা বলছেন, বেআইনিভাবে তো গাড়ি সবাই ব্যবহার করেন না। তার মানে নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তা আইন অমান্য করছেন। কিছু কর্মকর্তার নাম প্রশাসন উল্লে­খ করতে ভয় পাচ্ছে। 

২ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে লেখা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের চিঠিতে বলা হয়, সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্রের বেশ কিছু কর্মচারী প্রচলিত বিধি ও প্রাধিকারবহির্ভূত সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন। এমনকি কোনো কোনো মন্ত্রণালয়/বিভাগ কর্তৃক যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়াই বিভিন্ন দপ্তর/অধিদপ্তর/সংস্থা/ব্যাংক-বিমা/ কোম্পানি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান থেকে অধিযাচন (ফরমাশ দিয়ে আনা) করে গাড়ি আনা হচ্ছে। এ ছাড়া ‘প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা-২০২০ এর আওতায় গাড়ির ঋণ সুবিধাপ্রাপ্ত কোনো কোনো কর্মকর্তা গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাবদ সমুদয় অর্থ (৫০ হাজার টাকা) গ্রহণ করার পরও অনৈতিক ও বিধিবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ব্যবহার করছেন। অথচ উল্লি­খিত নীতিমালার ১৭ অনুচ্ছেদে এরূপ অনিয়মের বিষয়টি বন্ধ করার পাশাপাশি সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রজাতন্ত্রের কিছু কর্মচারীর প্রাধিকারবহির্ভূত গাড়ি ব্যবহারের এমন প্রবণতার ফলে একদিকে যেমন জনপ্রশাসনে বিশৃঙ্খলা ও আর্থিক অপচয়ের কারণ ঘটছে, অন্যদিকে তেমনি নৈতিকতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে সমাজে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সরকারের দায়িত্ব সচেতনতা সম্পর্কেও জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ ধারণা তৈরি হচ্ছে। সরকার এ ধরনের বিষয়ে অনমনীয় নীতি গ্রহণ করেছে।

এ অবস্থায় অধীন কর্মকর্তাদের প্রাধিকারবহির্ভূত গাড়ি ব্যবহার কঠোরভাবে বন্ধ (বারিত) করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে চিঠিতে অনুরোধ করা হয়। মঙ্গলবার এই চিঠি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অধীন কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনা দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। 

ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়