একদিনে দুই ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশ: বাড়ছে ভূমিকম্প ঝুঁকির শঙ্কা

একদিনে দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন আতঙ্ক বাড়িয়েছে, তেমনি নীতিনির্ধারকদের জন্যও এটি একটি সতর্ক সংকেত।

একদিনে দুই ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশ: বাড়ছে ভূমিকম্প ঝুঁকির শঙ্কা
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট:

একদিনের ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ও রাত—দুই সময়েই কম্পন অনুভূত হওয়ায় জনমনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোর নড়াচড়া বাড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে বাংলাদেশ সময় ৫ দশমিক ৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায়। কম্পনের প্রভাব বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই, একই দিন ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ১। উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। পাশাপাশি ভারতের হাওড়া শহর থেকে এর অবস্থান ছিল প্রায় ৩৬ কিলোমিটার পূর্বে। ভোরের কম্পন তুলনামূলকভাবে দুর্বল হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন।

ভূতাত্ত্বিকদের মতে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক ভূমিকম্প কোনো অঞ্চলের ভূত্বকের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল একই টেকটোনিক প্লেট সংলগ্ন হওয়ায় এখানে মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান।

মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্প বাংলাদেশে প্রভাব ফেলতে পারে—এটি নতুন নয়। তবে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেয় যে, বড় মাত্রার কম্পনের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বিশেষজ্ঞরা বারবার বলে আসছেন, ভূমিকম্প ঠেকানো সম্ভব নয়, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। তবুও রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা এবং জরুরি সাড়া ব্যবস্থার দুর্বলতা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

একদিনে দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন আতঙ্ক বাড়িয়েছে, তেমনি নীতিনির্ধারকদের জন্যও এটি একটি সতর্ক সংকেত। সময়মতো প্রস্তুতি না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্প মারাত্মক মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, ভূমিকম্প সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত মহড়া এখন সময়ের দাবি। সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্পগুলো আবারও দেখিয়ে দিল—ভূমিকম্পের ঝুঁকি কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং বাস্তব ও তাৎক্ষণিক প্রস্তুতির বিষয়।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়