তদবিরের চাপে বাবা হত্যার বিচার যাতে বন্ধ না হয়- ডরিন

আমার বাবা হত্যাকাণ্ডের শিকার, সেটার যাতে সঠিক বিচার হয়, সঠিক বিচারটা যাতে আমাকে নিশ্চিত করা হয়, সেই দাবি জানিয়েছি- আনার কন্যা ডরিন

তদবিরের চাপে বাবা হত্যার বিচার যাতে বন্ধ না হয়- ডরিন
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

অনেক বড় বড় জায়গা থেকে ফোন আসছে, তাদের ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য। সঠিক বিচারের আশ্বাস দিয়ে তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যেটা আইনে আসবে, যেটা সত্য ও সেটার বিচার হবে। 

অনলাইন ডেস্কঃ
আলোচিত হত্যাকান্ডের বিষয়ে পুরো দেশ এখন সোচ্চার। যেনতেন কেউ নয় স্বয়ং একজন সাংসদ খুন। কোন অবস্থাতেই যেন অপরাধীরা পার না পায় এটাই আপামর জনতার চাওয়া।  সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন বলেছেন, অপরাধীদের বাঁচাতে তদবির হচ্ছে। কোনো তদবিরের চাপে বাবা হত্যার বিচার যাতে বন্ধ না হয়। বুধবার বি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বাবা হত্যার বিচার চেয়েছেন ডরিন।  ডরিন বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি যে, আমার বাবা হত্যাকাণ্ডের শিকার, সেটার যাতে সঠিক বিচার হয়, সঠিক বিচারটা যাতে আমাকে নিশ্চিত করা হয়, সেই দাবি জানিয়েছি। 

আনারের মেয়ে আরও বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এরইমধ্যে অনেককে আটক করা হয়েছে। আমি শুনেছি, অপরাধীদের বাঁচাতে অনেক জায়গা থেকে তদবির করা হচ্ছে। তাদের যেন ছেড়ে দেওয়া হয়, সেজন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো তদবিরের চাপে পড়ে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার যাতে বন্ধ করার চেষ্টা না করা হয়, চাপের মুখে যাতে সঠিক তদন্ত বন্ধ করা না হয়, সেই দাবি জানিয়েছি। আমি যেন সঠিক বিচার পাই। সেটাই বলেছি। গিয়াস বাবু নামে যাকে আটক করা হয়েছে, তিনি বাবার প্রতিপক্ষ না। আমাদের সঙ্গে তার কোনো শত্রুতাও নেই। আমার মনে অনেক প্রশ্ন জাগছে। গত মাসের ১৭ তারিখে তার সঙ্গে ভাঙায় দেখা হয়েছে। সেখানে একটা টাকা দেওয়ার লেনদেনের কথা উঠেছে, যা আমি খবরে শুনেছি। আমার কথা হলো, এ টাকার যোগানদাতা কে? কেন তারা এটা করিয়েছি? আপনারা দেখেছেন, তাকে আটকের আগে থানায় তিনি জিডি করেছেন যে, তার তিনটি ফোন হারিয়ে গেছে। একই দিনে একজন মানুষের তিনটি ফোন কীভাবে হারিয়ে যায়, সেটাও আমার প্রশ্ন। এগুলো কী পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে, সে তো আমার বাবার শত্রু না। এই কাজগুলো কে করাচ্ছে, সেটা আমি বারবার বলেছি।

তিনি বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি নিয়ে গেছে। অবশ্যই তাদের কাছে সত্যিকারের কোনো তথ্যপ্রমাণ আছে, সেটা আমি নিজেও জানি। সেই প্রমাণের সাপেক্ষেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আসলে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আইনে যেভাবে বলা হয়েছে, সেভাবে যাতে আমার বাবার হত্যার বিচার করা হয়, আমি সেই দাবি জানিয়েছি। আমি শুনেছি, অনেক তদবির করা হচ্ছে। অনেক বড় বড় জায়গা থেকে ফোন আসছে, তাদের ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য। সঠিক বিচারের আশ্বাস দিয়ে তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যেটা আইনে আসবে, যেটা সত্য ও সেটার বিচার হবে। 

প্রসঙ্গত, গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনার গেদে সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান সংসদ সদস্য আনার। ওঠেন পশ্চিমবঙ্গে বরাহনগর থানার মণ্ডলপাড়া লেনে গোপাল বিশ্বাস নামে এক বন্ধুর বাড়িতে। পরদিন ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন এমপি আজিম। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেছেন, এমপি আজিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে।  প্রশ্নের যথাযথ জবাব দিতে পারলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান অতিরিক্ত কমিশনার হারুন।  তিনি বলেন, মূল ঘাতক শিমুল ভূঁইয়াসহ তিনজনের দেওয়া জবানবন্দিতে নাম এসেছে ‘গ্যাস বাবুর’। গ্যাস বাবুকের গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্যে নাম আসে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিন্টুর। হারুন বলেন, তথ্য-উপাত্ত বিচার বিশ্লেষণের জন্যই তাকে ডাকা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সদুত্তর দিতে পারলে মিন্টুকে ছেড়ে দেওয়া হবে। আর না পারলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংসদ সদস্য আনার হত্যাকাণ্ড নিয়ে আরও অনেকের তথ্য প্রমাণ রয়েছে। যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিবির এই কর্মকর্তা।

মামলা তদন্তের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা পুলিশ সবসময় স্বাধীনভাবে মামলা তদন্ত করে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো চাপ থাকে না।এর আগে সংসদ সদস্য আনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে সাইদুল করিম মিন্টুকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, আনার হত্যাকাণ্ডের প্রধান হোতা আখতারুজ্জামান শাহিনের সঙ্গে মিন্টুর যোগাযোগ ছিল।

ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম